দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শুক্রবার এনকাউন্টারে খতম হয়েছে কানপুরের ত্রাস বিকাশ দুবে। সেদিন যে গাড়ি করে বিকাশকে উজ্জয়িনী থেকে কানপুর নিয়ে আসা হচ্ছিল সেই গাড়িতে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবলের কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেদিনের ঘটনায় এই কনস্টেবলের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে গ্যাংস্টার। বাধা দিতে গিয়ে আহত হন কনস্টেবল।
দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর কোভিড টেস্টও হয়। রিপোর্ট আসে পজিটিভ। গাড়িতে থাকা বাকি তিন কনস্টেবলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে খবর। করোনা আক্রান্ত কনস্টেবলের সংস্পর্শে এই ক'দিন যাঁরা এসেছেন তাঁদের খোঁজ করছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার ওই কনস্টেবলের রিপোর্ট এসেছে কোভিড পজিটিভ। গণেশ শঙ্কর বিদ্যার্থী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে আক্রান্ত পুলিশ কনস্টেবলকে। সেখানকার অধ্যক্ষ ডক্টর আর বি কমল জানিয়েছেন, আইসোলেশনে রাখা হয়েছে আক্রান্তকে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকালে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়ীনীতে মহাকাল মন্দির থেকে গ্রেফতার হয়েছিল কানপুরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। মধ্যপ্রদেশ পুলিশ সেদিন সন্ধ্যায় তাকে তুলে দেয় উত্তরপ্রদেশে পুলিশের এসটিএফের হাতে। বিকাশকে উজ্জয়ীনী থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের শিবলিতে। শুক্রবার সকালে কানপুরের কাছে এসে উল্টে যায় বিকাশ দুবেকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে আসা কনভয়ের একটি গাড়ি। ওই গাড়িতেই ছিল গ্যাংস্টার। পুলিশের অনুমান, এর পিছনে হাত ছিল বিকাশেরই। এরপরই এক কনস্টেবলের বন্দুক ছিনিয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে পালাতে যায় গ্যাংস্টার। তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হলে উল্টে গুলি চালায় বিকাশ। সূত্রের খবর, তখনই আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। এনকাউন্টারে মারা যায় বিকাশ দুবে।
গত ২ জুলাই গভীর রাতে কানপুরের বিকরু গ্রামে বিকাশ দুবের সাতমহলা প্রাসাদে হানা দেয় বিশাল পুলিশবাহিনী। তবে তল্লাশি অভিযানে খোঁজ আগেই পেয়েছিল বিকাশ। সঙ্গীসাথীদের নিয়ে তৈরিই ছিল সে। পুলিশ বাড়ির কাছাকাছি আসতেই ছাদ থেকে শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলি আর পাথরবৃষ্টি। নিহত হন আটজন পুলিশকর্মী। আহত হন আরও সাতজন।
এই ঘটনার পর টানা ৬ দিন ধরে পলাতক ছিল বিকাশ। হন্যে হয়ে তাকে খুঁজে বেড়ায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের ২৫টি টিম। অবশেষে ৯ জুলাই সকালে উজ্জয়ীনীর মহাকাল মন্দির থেকে তাকে গ্রেফতার করে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। তার স্ত্রী এবং ছেলেকেও গ্রেফতার করা হয়েছে লখনউ থেকে।