দ্য ওয়াল ব্যুরো : আস্থা ভোট না হওয়ায় কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতটা বিধানসভার মেঝেতেই ঘুমিয়ে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের এই সিদ্ধান্তের পর অবশ্য তাঁদের জন্য রাতের খাবারের আয়োজন করল কংগ্রেসই। কংগ্রেস বিধায়ক তথা উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বিধানসভায় উপস্থিত বিজেপি বিধায়কদের জন্য রাতের খাবারের বন্দোবস্ত করেন।
খাবারের ব্যবস্থা করার পর তিনি বলেন, "রাজ্যের শাসকদল হিসেবে এটা আমাদের কর্তব্য। বিজেপি বিধায়কদের কারও প্রেশার রয়েছে, কারও বা সুগারের সমস্যা রয়েছে। সে সব ভেবেচিন্তেই খাবারের ব্যবস্থা আমরা করেছি। রাজনীতির বাইরে তো আমরা সবাই বন্ধু। এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।"
রাতের খাবার খাওয়ার পর অবশ্য বিধানসভার মেঝেতেই গণঘুম দিলেন বিজেপি বিধায়করা। কেউ লুঙ্গি-গোল গলা গেঞ্জি, কেউ বা ট্রাউজার্স-টিশার্ট পরে টানটান ঘুম দিয়েছেন সবুজ কার্পেটের উপর।
বৃহস্পতিবার কর্ণাটকে বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতে বিজেপি দাবি করেছিল, এ দিনই আস্থাভোট করতে হবে। সন্ধে নাগাদ স্পষ্ট হয়ে যায় ভোটাভুটি করাবেন না অধ্যক্ষ। তখন বিজেপির একদল প্রতিনিধি খোদ রাজ্যপাল বাজুভাই বালার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
রাজ্যপাল নিজে স্পিকার কেআর রমেশ কুমারকে অনুরোধ করেছিলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই যেন আস্থাভোট নেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হয়নি। তার বদলে রাজ্যপাল শুক্রবার সকাল এগারোটা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দিয়েছেন। রাজ্যপাল সময়সীমা দিয়ে বলেছেন, শুক্রবার দুপুর দেড়টার মধ্যে আস্থা ভোট করতে হবে।
গত দু’সপ্তাহে শাসক জোটের মোট ১৬ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। স্পিকার এখনও সেগুলি গ্রহণ করেননি। গ্রহণ করলে সরকার নিশ্চিত ভাবেই গরিষ্ঠতা হারাতো। স্পিকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিদ্রোহীরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে, কবে ইস্তফা গ্রহণ করবেন, সে সিদ্ধান্ত স্পিকারই নেবেন। আদালত তাঁর এক্তিয়ারে নাক গলাবে না। তবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও বিধায়ককে বিধানসভায় হাজির হতে বলা যাবে না।
বৃহস্পতিবার সকালেই দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর কংগ্রেস নেতারা স্থির করেন, কিছুতেই আস্থাভোট হতে দেওয়া যাবে না। সেজন্য তাঁরা আস্থাভোট বিতর্কে সরকার পক্ষের মোট ২৬ জন বক্তার নাম প্রস্তাব করেন। কংগ্রেস এখনও ভিতরে ভিতরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। তাঁদের কয়েক জনকে ফের সরকারের দিকে টেনে আনার আশা ছাড়েনি কংগ্রেস-জেডিএস।