দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ, রবিবার পূর্ণ লকডাউন কার্যকর করা হবে কেরলে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্য কিচ্ছু খোলা যাবে না। একইসঙ্গে কেরল সরকার জানিয়ে দিয়েছে, জরুরি পরিষেবা বাদ দিয়ে আর কিছুই চলবে না রবিবার। কেন্দ্রীয় সরকার যাতে যাতে ছাড় দিয়েছে, দক্ষিণের রাজ্যটি একদিনের জন্য তাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
গতকাল কেরলে দু'জনের শরীরে কোভিড সংক্রমণের হদিশ মেলে। এই দু'জনই বিদেশ থেকে ফিরেছেন। প্রসঙ্গত, বন্দে ভারত মিশনে বিদেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তাতেই আবুধাবি এবং দুবাই থেকে বিমান এসে নামে কোচিতে।
কেরল সরকারের তরফে বলা হয়েছে, আক্রান্ত দু'জনকে কোচি এবং কোঝিকোড়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে যাঁরা ফিরছেন তাঁদের একাধিক মেডিক্যাল পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেকের জন্য ২৮ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক।
শনিবার রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেরল সরকার জানিয়ে দিয়েছে, রবিবার দুধ, ওষুধ, চিকিৎসা পরিষেবা, দমকল, সংবাদমাধ্যম-- এইসব ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কিছুই চলবে না। চলবে না। চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনও কারণে রাস্তায় বেরোনো যাবে না।
করোনা মোকাবিলায় কেরল সরকারের ভূমিকা প্রথম থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে কেরল সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, বিদেশ থেকে ফেরা মানুষজন। তাঁদের যথাযথ স্ক্রিনিং, টেস্টিং এবং আইসোলেশনের ব্যবস্থা করার জন্য মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্যকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন। এর মাথায় রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা।
৩০ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছিল কেরলে। ভারতে সেটাই ছিল প্রথম করোনা সংক্রমণের ঘটনা। নতুন দুই আক্রান্তকে নিয়ে কেরলে মোট সংক্রামিতের সংখ্যা ৫০৫। শুধু সংক্রমণ রোখা নয়, কোভিড আক্রান্তদের সুস্থ করে বাড়ি পাঠানোতেও রেকর্ড গড়েছে দক্ষিণের রাজ্যটি। ইতিমধ্যেই ৪৮৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মৃত্যু হয়েছে চার জনের। এখন কোভিড-১৯ সক্রিয় রয়েছে ১৭ জনের শরীরে।