দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ দুটো ছবি। প্রেক্ষাপট এক। উত্তরপ্রদেশের হাথরাস। কিন্তু ছবি দুটিতে আমল ফারাক। একটা ছবিতে হাথরাসের নির্যাতিতার বাড়িতে চেয়ারে বসে জেলাশাসক, তাঁর সামনে মাটিতে বসে নির্যাতিতার পরিবারের লোকেরা। ক্যামেরার সামনেই পরিবারের লোকেদের হুমকি দিচ্ছেন জেলাশাসক। বয়ান বদলের দাবি জানাচ্ছেন। অন্য ছবিতে নির্যাতিতার পরিবারের সামনেই মাথা ঝুঁকিয়ে বসে রয়েছে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। পরিবারের এক গুরুজনের হাঁটুতে হাত দিয়ে রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে নির্যাতিতার মাকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া। আর এই ছবিই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবাই বলছেন, এই সমবেদনা গোটা ভারতের দেখানো উচিত। টুইটারে ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ হয়ে উঠেছে দলিত লাইভস ম্যাটার।
শনিবার রাত আটটার পর হাথরাসের নির্যাতিতার বাড়িতে যান রাহুল, প্রিয়ঙ্কা। সেখানে গিয়ে তরুণীর মাকে জড়িয়ে ধরেন প্রিয়ঙ্কা। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন দু’জনে। তাঁদের সমস্যার কথা, দাবির কথা শোনেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ শুনে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
তারপরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে রাহুল গান্ধী বলেন, “কোনও শক্তি আমাদের চুপ করিয়ে রাখতে পারবে না। পরিবার যাতে ন্যায় বিচার পায় তার চেষ্টা করব আমরা।” অন্যদিকে প্রিয়ঙ্কাও অনেকটা একই সুরে বলেন, “যখনই কোথাও কোনও অন্যায় হবে, আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ন্যায় বিচারের দাবি জানাব। কোনও শক্তি আমাদের থামাতে পারবে না।”
প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর নির্যাতিতার মাকে জড়িয়ে ধরার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সবাই বলছেন, হাথরাসের ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের কাছে গিয়ে যে সমবেদনা প্রিয়ঙ্কা দেখিয়েছেন, সেটাই সব রাজনীতিবিদদের দেখানো উচিত। এই সমবেদনা গোটা ভারতের দেখানো উচিত। প্রিয়ঙ্কার প্রশংসা শোনা গিয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। আর এই ছবির দৌলতেই টুইটারে #দলিত লাইভস ম্যাটার ট্রেন্ডিং। ঠিক যেভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের প্রতিবাদে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং হয়েছে, সেভাবেই এই নতুন হ্যাশট্যাগ উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তার সিংহ ভাগ কৃতিত্ব টুইটারিয়ানরা দিচ্ছেন প্রিয়ঙ্কাকে।
শুধু সাধারণ মানুষ নয়, প্রকাশ রাজের মতো ব্যক্তিও এই ছবি নিজের টুইটারে শেয়ার করেছেন। সেখানে একদিকে তিনি রাহুল-প্রিয়ঙ্কার ছবি দিয়েছেন। অন্যদিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ছবি দিয়েছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে নির্ভয়ার বাবা মাথা ঝুঁকিয়ে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন মোদীকে। ক্যাপশনে প্রকাশ রাজ লিখেছেন, “সমবেদনা ও অহঙ্কার।”
https://twitter.com/prakashraaj/status/1312672753338646529
শুধুমাত্র নির্যাতিতার পরিবারের প্রতি নয়, দলীয় কর্মীদের প্রতিও প্রিয়ঙ্কার এই সমবেদনার ছবি দেখা গিয়েছে গতকাল। শনিবার দুপুরে রাহুলদের কনভয় যখন দিল্লি-নয়ডা ডায়রেক্ট ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় পৌঁছেছে, তখন দেখা যায়, মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশবাহিনী। পুরো রাস্তা ব্যারিকেড করে দেওয়া এই সময় কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের একদফা মারপিট হয়। তখন গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তিকে পুলিশের লাঠির ঘা থেকে রক্ষা করেন প্রিয়ঙ্কা।
দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে ওই মারপিটের ছবি মোবাইলে তুলে পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যায়, সাদা কুর্তা পরা এক ব্যক্তিকে পুলিশ লাঠি দিয়ে মারছিল। সেই দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন প্রিয়ঙ্কা। গাঢ় নীল কুর্তা ও সাদা মাস্ক পরা নেত্রী লাফিয়ে পেরিয়ে গেলেন একটি হলুদ ব্যারিকেড। তারপর লোকটিকে আড়াল করে দাঁড়ালেন। তাঁকে রাস্তার ধারে বসালেন। পুলিশ যাতে আর না মারতে পারে, সেজন্য তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। প্রিয়ঙ্কার এই কাজও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।