দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে প্রকাশিত ২০১৮ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই। গত বছরে অনেকবার উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন সংখ্যালঘু মুসলিমরা। আর এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পরেই তাকে অর্থহীন ও মিথ্যে বলে দাবি করল ভারত।
প্রকাশিত এই রিপোর্টের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রাবিশ কুমার জানিয়েছেন, এই বিদেশি রিপোর্টের মধ্যে কোনও সত্যতা নেই। পুরোটাই একটা ধারণার উপর নির্ভর করে তৈরি। তিনি বলেন, "ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এই দেশ তার ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য গর্ব বোধ করে। ভারতের সংবিধানেই লেখা রয়েছে, প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার সমান। সে সংখ্যাগুরুই হোক, আর সংখ্যালঘু।" তিনি আরও বলেন, "এটা গোটা বিশ্ব জানে, যে ভারত একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং তার সংবিধান সবাইকে ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার মানুষের সেই স্বাধীনতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। আমাদের দেশ সহনশীলতার নীতিতে বিশ্বাসী।"
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারও এই রিপোর্টের বিরোধিতা করে তাকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলে মন্তব্য করেছে। শনিবার বিজেপি সাংসদ ও মিডিয়া প্রধান অনিল বালুনি একটি বিবৃতি দিয়ে বলেন, "এই রিপোর্টের প্রধান বিষয় হিসাবে বলে হয়েছে যে সংখ্যালঘুদের উপর পরিকল্পনামাফিক অত্যাচার করা হয়েছে গত এক বছরে। এই কথা সম্পূর্ণ ভুল এবং মিথ্যে। বরং এর উল্টোদিকে গত এক বছরে যে সব সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি সবই ব্যক্তিগত ও স্থানীয় গণ্ডগোল। এর সঙ্গে কোনও ভাবেই ধর্ম যুক্ত নয়।"
অনিল আরও বলেন, "ভারতের সংবিধানই তো ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। আমাদের সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, সবকা সাথ সবকা বিকাশ। দুঃখজনকভাবে এই সব বিষয়গুলো রিপোর্টে কোনও জায়গা পায়নি।"
আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রতি বছর গোটা পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করে। এই রিপোর্টের নাম, "রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম"। ২০১৮ সালে প্রকাশ করা রিপোর্টে বলা হয়েছিল, "ভারতের সরকার অনেক সময়ই সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গো-হত্যার নাম করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করেছে। এর ফলে প্রাণহানি পর্যন্ত হয়েছে।" আমেরিকার এই রিপোর্ট প্রকাশের পরেই ভারতের তরফ থেকে জবাব দেওয়া হলো।