দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বৃহস্পতিবার থেকে পলাতক উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। তাকে ধরতে না পারলেও তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গীকে এনকাউন্টারে খতম করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে বিকাশের ঘনিষ্ঠ অমর দুবেকে হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরে একটি এনকাউন্টারে মেরেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুলিশের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় যুক্ত ছিল এই অমরও।
উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকেশ দুবেকে ধরতে গত বৃহস্পতিবার কানপুরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি দল গেলে আচমকায় তাঁদের উপর গুলি চালানো শুরু করে বিকাশের সঙ্গীরা। একে ৪৭ বন্দুক থেকে গুলি চালানো হয়। এই ঘটনায় ৮ পুলিশকর্মী শহিদ হন। গুরুতর জখম হন আরও ৭। তদন্তে জানা গিয়েছে, বিকাশের গোপন ডেরায় পুলিশ যে হানা দিচ্ছে, সেকথা পুলিশের মধ্যে থেকেই কেউ বিকাশকে জানিয়ে দিয়েছিল। তাই আগে থেকেই তৈরি ছিল তারা। সেই ঘটনায় অমর দুবেও যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। সেদিনের পর থেকে বিকাশ ও তার সঙ্গীরা পলাতক।
এই ঘটনার পরে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। এই টাস্ক ফোর্সে ৪০টি থানার পুলিশ রয়েছে। কানপুর, কানপুর দেহাত, উন্নাও ও পাশের একাধিক জেলায় বিকাশের ছবি বিলি ও পোস্টার টাঙানো হয়েছে। বিকাশ ও তার ১৮ সঙ্গীর বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এই ১৮ সঙ্গীকে ধরিয়ে দিতে পারলে প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনজন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাদের তরফেই কেউ বিকাশকে পুলিশের হানার খবর জানিয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারী দলের। এই তিন পুলিশকর্মীর মধ্যে দু’জন সাব ইনস্পেক্টর ও একজন কনস্টেবল রয়েছে।
গত শনিবার বিকাশের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী দয়াশঙ্কর অগ্নিহোত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কানপুরের কল্যাণপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে পায়ে গুলি লাগে দয়াশঙ্করের। তারপরেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে অবশ্য একটি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
রবিবার জেরায় পুলিশকে দয়াশঙ্কর জানায়, পুলিশের মধ্যে থেকেই কেউ বিকাশকে ফোন করে পুলিশের হানা দেওয়ার খবর দিয়েছিল। তারপরেই ওই তিন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়।
জেরায় দয়াশঙ্কর আরও জানায়, হানার ঠিক আগেই পুলিশের কাছ থেকে বিকাশ দুবের কাছে একটা ফোন গিয়েছিল। তারপরেই সবাইকে সতর্ক করে দেয় বিকাশ। পুলিশের আসার আগেই তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছিল দুষ্কৃতীরা। দয়াশঙ্কর আরও জানায়, তার আগে সেই বাড়িতে শুধুমাত্র বিকাশের কাছেই বন্দুক ছিল। অর্থাৎ পুলিশের হানার খবর জানতে না পারলে তাদের সেখান থেকে পালানো সম্ভব হত না। কিন্তু খবর পেয়েই বাকি বন্দুকের ব্যবস্থা করে ফেলে তারা।