
শেষ আপডেট: 24 June 2020 13:02
প্রাক্তন অ্যাডিশনাল সার্ভেয়ার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া মেজর জেনারেল রমেশ পাধি জানিয়েছেন, “এই ছবি দেখে স্পষ্ট পেট্রল পয়েন্ট ১৪-এর কাছে কিছু একটা হচ্ছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে আমাদের দিকে চিন কিছু তৈরি করছে। ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে ভারী যান-বাহনের চলাচল হচ্ছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে, বড় পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।” কেন্দ্রের তরফেও জানানো হয়েছে, এই নতুন ছবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রথমবার এই এলাকায় গালওয়ান নদীর উপর কালভার্ট তৈরি করেছে চিন। এই কালভার্টের উপর দিয়েই চিনা ট্রাক নদী পার হচ্ছে। ১৬ জুনের ছবিতে যেখানে বুলডোজারের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল, সেখানেই এই কালভার্টগুলি তৈরি হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ওই বুলডোজার দিয়ে পাথর ফেলে নদীর প্রবাহ কমিয়ে কালভার্ট তৈরি করেছে চিন।
গালওয়ান নদীর পাশে যে রাস্তা তা আগের তুলনায় অনেক বেশি চওড়া হয়েছে বলে বোঝা যাচ্ছে উপগ্রহ চিত্রে। কিন্তু ভারতের তরফে এই এলাকায় কোনও রাস্তা বানানো হয়নি। ভারত যদিও ইতিমধ্যেই ৬ কিলোমিটার লম্বা একটি রাস্তা তৈরি হয়েছে, যা দক্ষিণে দুরবুকের সঙ্গে উত্তরে দৌলত বেগ ওল্ডিকে যোগ করেছে। এই রাস্তা তৈরি করার ফলে বর্তমানে ওই এলাকায় ভারতীয় সেনার যাতায়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার ভারত ও চিনের মধ্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্তরের আলোচনা হয়। সেখানে স্থির হয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দু’পক্ষই সেনা সরিয়ে নেবে। যদিও এখনও দু’তরফের কেউই সেনা সরানো শুরু করেনি।
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বেশ কয়েক দিন ধরেই ভারত ও চিনের মধ্যে এই দ্বৈরথ চলছে। ভারতের অভিযোগ, চিনের তরফে বেআইনিভাবে ভারতীয় সেনার উপর হামলা চালানো হয়েছে। চিন উলটে আবার ভারতের উপর দায় চাপিয়েছে। যদিও এর মধ্যেই সর্বদল বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, চিনা সেনা ভারতে প্রবেশ করেনি। ভারতের কোনও বাঙ্কারে কব্জাও করতে পারেনি। তারপরেই প্রশ্ন ওঠে চিন যদি ভারতের সীমানায় না ঢুকেছে, তাহলে সংঘর্ষ কী ভাবে হল। তবে কি ভারত চিনের সীমানায় ঢুকেছে। যদিও উপগ্রহ চিত্রে চিনের কার্যকলাপে বারবার প্রমাণিত হচ্ছে, চিনই ক্রমাগত গালওয়ান উপত্যকায় আগ্রাসন বাড়াচ্ছে।