দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত ও চিন, দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। গত সোমবার গালওয়ান উপত্যকায় যে সংঘর্ষ হয়েছে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে গালওয়ান উপত্যকায় তাদের অধিকার নিয়ে চিনের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যে ও অতিরঞ্জিত বলে দাবি করল কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রক। সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, ভারত কখনওই এই দাবি মানবে না। চিনের সোমবারের পদক্ষেপ উচ্চপর্যায়ের সেনা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের ঠিক উল্টো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কেন্দ্র।
মঙ্গলবার চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগে থেকে পরিকল্পনা করে হামলা করেছিল চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। এই হামলায় ভারতের অন্তত ২০ জওয়ান শহিদ হয়েছেন। চিনের তরফেও প্রাণহানি হয়েছে। এই ঘটনার সব দায় চিনের।
বুধবার চিনের তরফে দাবি করা হয়, গালওয়ান উপত্যকায় তাদের অধিকার রয়েছে। তাদের অঞ্চলে ভারতীয় সেনা ঢুকে পড়াতেই হামলা চালিয়েছে তারা। এর জবাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বিবৃতি দিয়ে জানান, "আমরা আগেই জানিয়েছি এই প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও চিনের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। দু'পক্ষই এই বিষয়ে একমত যে আরও ভালোভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যেত। সেনার উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা মানা হয়নি। তাই এরপরে এই ধরনের মিথ্যে ও অতিরঞ্জিত মন্তব্যের কোনও মানে নেই। ভারত কখনওই চিনের এই মিথ্যে দাবি মেনে নেবে না।"
গত ৬ জুন সেনার উচ্চপর্যায়ের যে বৈঠক হয়, তাতে ভারতের তরফে চিনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। চিনের তরফে তা মেনেও নেওয়া হয়। সেইমতো পেট্রলিং পয়েন্ট ১৫ থেকে তাঁবু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা তা দেখতেই গত সোমবার কর্নেল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে ১৬ বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানরা সেখানে যান। তখনই তাঁদের উপর হামলা চালায় চিনা সেনা। এই হামলায় ভারতের তরফে অন্তত ২০ জওয়ান শহিদ হন। চিনের অন্তত ৪৫ জওয়ান হতাহত হয়েছে বলে খবর।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ফের সেনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে ভারত ও চিন। এখন দেখার এই বৈঠক থেকে কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে কিনা।