দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেদের বাড়িতে টিভি না থাকায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর বাড়িতে টিভি দেখতে যেত তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। কিন্তু তার জন্য যে এই ফল তাকে পেতে হবে তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তার মা। প্রতিবেশী যুবকের হাতেই খুন হতে হল বাচ্চা মেয়েটিকে। আরও এক প্রতিবেশী এই ঘটনা দেখে ফেলায় অবশেষে শাস্তি পেতে হয়েছে অভিযুক্তকে।
ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন জেলায়। আট বছরের ওই মেয়ে একটা টালির বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকত। মা লোকের বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন। কোনও রকমে সংসার চালান তিনি। বাড়িতে টিভি নেই। আর তাই স্কুল থেকে ফিরে সন্ধেবেলা প্রতিবেশীর বাড়িতে টিভি দেখতে যেত বাচ্চা মেয়ে। সেইসময় তার মা কাজে বাইরে থাকতেন।
প্রতিদিনের মতো বুধবারও সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর বাড়িতে টিভি দেখতে যায় সে। অন্যদিন টিভি চালানো থাকলেও সেদিন টিভি বন্ধ ছিল। বাবার সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছিল প্রতিবেশী যুবকের। সেই সময় গিয়ে বাচ্চাটি টিভি চালিয়ে দেওয়ার কথা বলে। রাগের মাথায় মেয়েটিকে গলা টিপে খুন করে ওই যুবক। তারপর তার দেহ একটি ড্রামে ঢুকিয়ে রাখে।
এই ঘটনার পর এক বন্ধুকে খবর দেয় সে। তারপর দু’জনে মিলে ড্রাম বয়ে নিয়ে যায় কাছের একটি ব্রিজে। তারপর ব্রিজ থেকে নালার জলে দেহটি ফেলে দেয়। এই পুরো ঘটনা দেখে ফেলেন আর এক প্রতিবেশী। তিনিই সঙ্গে সঙ্গে তুতিকোরিন থানায় খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এসে দেহটিকে উদ্ধার করে নালা থেকে। তারপরে ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে তারা। বাচ্চাটির মা ওই দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। তুতিকোরিন থানার এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, “বাচ্চাটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাকে কোনও রকমের যৌননিগ্রহ করা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপাতত পকসো ধারায় দু’জনের বিরুদ্ধে খুন ও দেহ লোপাটের মতো একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”