দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃতীয়বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ভিড়ে ঠাসা রামলীলা ময়দানে শপথ নিয়েই দিল্লিবাসীর উদ্দেশে কেজরি বলেন, “আমি বিজেপি, কংগ্রেস ভোটারদেরও মুখ্যমন্ত্রী। সরকার কোনও দল দেখে চলবে না। সরকার চলবে দিল্লির উন্নয়নের জন্য।”
সকাল থেকেই ভিড় বাড়ছিল রামলীলায়। এগারোটার পর থেকে আর তিল ধারনের জায়গা ছিল না। এদিন সকালেই টুইট করে দিল্লিবাসীকে তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন আম আদমি পার্টির প্রধান। লিখেছিলেন, “আজ আমি তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেব। আপনারা আসুন রামলীলায়। আপনাদের সন্তানকে আশীর্বাদ করে যান।”
শপথ নেওয়ার পর কেজরিওয়াল বলেন, “ভোটের সময়ে প্রচারে অনেক নেতিবাচক কথা হয়েছে। সেটা হতেই পারে। কারণ রাজনীতিতে একে অন্যের বিরুদ্ধে বলবেই। কিন্তু এখন ভোট মিটে গেছে। তাই আর নেতিবাচক কিছু নয়। চলুন একসঙ্গে দিল্লির প্রগতির জন্য কাজ করি।”
দিল্লির ভোট এবার অন্য মাত্রায় চলে গিয়েছিল। কেজরিওয়ালের থেকে কুর্সি ছিনিয়ে নিতে সমস্ত শক্তি ঢেলে দিয়েছিল বিজেপি। অমিত শাহ, প্রকাশ জাভড়েকর, স্মৃতি ইরানিরা তো বটেই, ৭০টি আসনের জন্য নামানো হয়েছিল ২৭০ জন সাংসদকে। মেরুকরণও তীব্র থেকে তীব্রতর জায়গায় গিয়েছিল। সব মিলিয়ে দিল্লির দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। আর সেই লড়াইয়ে বিজেপিকে ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে কেজরিওয়ালের দল। ৬২টি আসন দখল করেছে আপ। আটটি পেয়েছে বিজেপি। ৬৬টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬৩ আসনে জামানত জব্দ হয়ে গিয়েছে কংগ্রেসের। কিন্তু এদিন কেজরিওয়াল বুঝিয়ে দিলেন, দলমত দেখে তাঁর সরকার কোনও কাজ করবে না। রাজধানীর সার্বিক উন্নয়নই তাঁর লক্ষ্য।
এদিন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেই শপথ নেন ছ’জন মন্ত্রী। তাঁরা হলেন মনীশ সিসোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন, গোপাল রাই, কৈলাস গেহলট, ইমরান হোসেন এবং রাজেন্দ্র গৌতম।