দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যা মামলার রায় দেওয়ার আগে উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠককরবেন দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব ও পুলিশ প্রধানকে নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠিয়েছেন বিচারপতি গগৈ। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হবে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত নিয়ে।
আগামী ১৭ নভেম্বর অবসর নেবেন দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তার আগে ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় শোনাবেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অযোধ্যা মামলার রায়। মন্দির-মসজিদ মামলায় রায় বেরোনর পরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। অযোধ্যায় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য চার দফা পরিকল্পনা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের কর্তারা মনে করেন, একটি পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে অপরটি কাজে লাগানো যাবে। আপাতত শহরে ১২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সেখানে পাঠানো হবে আধা সেনা ও প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি।
আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরে চার জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চলছে। কেউ আপত্তিকর কিছু পোস্ট করলে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হবে। অযোধ্যা রায় নিয়ে কেউ যদি বিতর্কিত কিছু পোস্ট করেন বা শেয়ার করেন, তাহলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি ও পি সিং বলেন, “পুলিশ শহরে টহল দিচ্ছে। নানা অঞ্চলে শান্তি কমিটির বৈঠক করা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকদের বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। কেউ আইন ভাঙছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।”
৬ অগস্ট থেকে টানা ৪০ দিন চলেছে অযোধ্যা মামলার শুনানি। এই শুনানির মধ্যেই নানান ঘটনা দেখেছে প্রধান বিচারপতির এজলাস। আইনজীবীর ম্যাপ ছিঁড়ে দেওয়া থেকে প্রধান বিচারপতির তির্যক বাক্যবাণ—এই শুনানিকে আরও উত্তেজক করে তুলেছিল। শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়দান স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট।
২.২৭ একর জমিতে মন্দির ছিল না মসজিদ ছিল তাই নিয়ে বিতর্ক। অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে ষোড়শ শতকে বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। ১৯৯২ সালে ৬ ডিসেম্বর তার কাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেয় হিন্দুত্ববাদীরা। সেই জায়গায় তারা রামমন্দির নির্মাণের দাবি তোলে। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেয়, বিতর্কিত জমির দুই-তৃতীয়াংশ হিন্দুদের এবং এক-তৃতীয়াংশ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের। হিন্দু ও মুসলিমদের দু’পক্ষের সংগঠনই এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। তারপর ন’বছর ধরে শীর্ষ আদালতে চলেছে এই মামলা।