অরুণ শৌরির বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ সিবিআইকে, হোটেল বিক্রি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সিদ্ধান্ত বিশেষ আদালতের
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ হোটেল বিক্রি সংক্রান্ত একটি দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ শৌরিকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজস্থানের উদ
শেষ আপডেট: 17 September 2020 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ হোটেল বিক্রি সংক্রান্ত একটি দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ শৌরিকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজস্থানের উদয়পুরে লক্ষ্মী বিলাস প্যালেস হোটেল বিক্রি সংক্রান্ত একটি দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। অরুণ শৌরি ছাড়াও প্রাক্তন আমলা প্রদীপ বাইজাল ও হোটেল মালিক জ্যোৎস্না সুরীর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অটল বিহারী বাজপেয়ী জমানায় মন্ত্রী থাকাকালীন অরুণ শৌরির সময়েই বিপুল লোকসানে এই হোটেল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে আদালত। এই হোটেলের মূল্য ২৫২ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৭ কোটি টাকায় তা বেচে দেওয়া হয়। তাই নতুন করে হোটেল বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত।
রাজস্থানের উদয়পুরের এই লক্ষ্মী বিলাস প্যালেস হোটেল আগে রাজাদের সম্পত্তি ছিল। ফতেহ সাগরের তীরে অবস্থিত এই হোটেলের নাম বর্তমানে ললিত লক্ষ্মী বিলাস প্যালেস।
২০০২ সালে এই হোটেলের বিক্রি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তদন্ত করে ২০১৯ সালের শেষদিকে সিবিআই একটি রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু সিবিআইয়ের সেই রিপোর্ট খারিজ করে দেয় বিশেষ আদালত। নতুন করে মামলা শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশের বিষয়ে অরুণ শৌরি জানিয়েছেন, “আমি এখনও আদালতের অর্ডারের কপি পাইনি। অর্ডারের কপি দেখে তারপরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” এই ব্যাপারে আইনি পরামর্শ নিচ্ছে সিবিআইও।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০২ সালে। সরকারের অধীনে থাকা লক্ষ্মী বিলাস প্যালেস হোটেল বিক্রি করা হয় ললিত সুরী গ্রুপকে। সেই সময় বিপুল পরিমাণ ক্ষতিতে সেই হোটেল বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে। তদন্ত করতে গিয়ে সিবিআই অবশ্য বলে, হোটেল বিক্রির ক্ষেত্রে লোকসানের প্রধান কারণ হল তার মূল্যায়ণের সমস্যার জন্য। যে এজেন্সি হোটেলের দাম নির্ধারণ করেছিল, সেই কান্তি কারামসে অ্যান্ড কোম্পানিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।
সিবিআই সূত্রে খবর, তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় সম্পত্তির অবমূল্যায়ণ হয়েছে। কান্তি কারামসে অ্যান্ড কোম্পানি ১৯৩.২৮ কোটি টাকা কম দাম ধার্য করে ওই হোটেলের। তারপরেই ২০১৪ সালের ১৩ অগস্ট একটি মামলা দায়ের করে সিবিআই প্রদীপ বাইজাল নামের এক আমলাকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে।
এই প্রসঙ্গে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত জানায়, “১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চলা দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের ফলেই সরকারের এত বড় ক্ষতি হয়েছে। এই হোটেলের প্রতি বর্গগজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ টাকা। হোটেলের একটা চামচের দামও বোধহয় তার থেকে বেশি।”
উদয়পুরের রাজাদের সম্পত্তি ছিল এই লক্ষ্মী বিলাস প্যালেস। রাজাদের সম্পত্তি অধিগ্রহণের সময় তা সরকারের অধিকারে আসে। স্বাধীনতার পরে সরকার এই হোটেল চালাত। ২০০২ সালে তা ললিত সুরী গ্রুপকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আর সেই সময়ের দুর্নীতি নিয়েই এদিন নির্দেশ দিয়েছে আদালত।