
শেষ আপডেট: 21 August 2020 02:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের কক্ষপথে এক বছর সম্পূর্ণ করল ভারতের চন্দ্রযান ২। বৃহস্পতিবার এই এক বছর সম্পূর্ণ হয়েছে চন্দ্রযানের। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, সব যন্ত্রপাতি ঠিকমতো কাজ করছে। এখনও এই চন্দ্রযানে যা জ্বালানি রয়েছে তাতে চাঁদের চারপাশে আরও সাত বছর ঘুরতে পারবে চন্দ্রযান, এমনটাই জানিয়েছে ইসরো।
২০০৮ সালে চন্দ্রযান ১ উৎক্ষেপণ করেছিল ইসরো। তার মাধ্যমে এই ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে চাঁদে জল রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মাটিতে বরফেরও অস্তিত্ব দেখা যায়। সেই সাফল্য থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই দ্বিতীয় মিশনে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামার পরিকল্পনা করে ইসরো।
২০১৯ সালের ২২ জুলাই উৎক্ষেপণ হয়েছিল চন্দ্রযান - ২। ২০ অগস্ট চাঁদের কক্ষপথে ঢুকেছিল এই মহাকাশযান। বৃহস্পতিবার ইসরোর তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, “চাঁদে অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও চাঁদের কক্ষপথে ঠিকভাবে পৌঁছে গিয়েছিল চন্দ্রযান ২। চাঁদের চারপাশে এক বছর পূর্ণ করেছে এই চন্দ্রযান এবং এর সব যন্ত্রপাতি ঠিকমতো কাজ করছে। নিজের নির্দিষ্ট কক্ষপথ ধরেই ঘুরছে এই চন্দ্রযান। এই মুহূর্তে এই যানে যে পরিমাণ জ্বালানি রয়েছে, তাতে আরও সাত বছর সহজেই এই যান চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে পারবে।”
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের জন্য পাঠানো হয়েছিল চন্দ্রযান ২। এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অর্থাৎ অন্ধকার দিকে অবতরণে সক্ষম হয়নি। ইতিহাস তৈরি করার চেষ্টা করেছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। সবকিছুই ঠিক ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চাঁদের উপর হার্ড ল্যান্ডিং হয় বিক্রমের।
ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও চন্দ্রযান ২-এ যে হাই রেজোলিউশন ক্যামেরা লাগানো রয়েছে, তা থেকে চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তুলে পাঠানো হচ্ছে ইসরোকে। তার সাহায্যে অনেক গবেষণা চালাচ্ছে ইসরো। এক বছর চাঁদের উপর কী কী ছবি চন্দ্রযান তুলেছে, তা এই বছরের শেষে সবার দেখার জন্য প্রকাশ করতে চাইছে ইসরো। এর ফলে চাঁদ নিয়ে মানুষের মধ্যে আরও আগ্রহ তৈরি হবে বলেই জানাচ্ছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, এই এক বছরে চন্দ্রযান থেকে যে পরিমাণ ছবি তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তাতে চাঁদ সম্পর্কে গবেষণার এক নতুন দিক খুলে গিয়েছে। তাই আগামী সাত বছরে চন্দ্রযানের মাধ্যমে আরও অনেক তথ্য জানা যাবে বলেই দাবি করেছে ইসরো। এই ছবির মাধ্যমে চাঁদের ভূপৃষ্ঠের টোপোগ্রাফি, খনিজ, রাসায়নিক কম্পোজিশন, আবহাওয়া প্রভৃতি সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাচ্ছে ও আগামী দিনেও যাবে বলে জানিয়েছে তারা। সেইদিক থেকে চন্দ্রযান ২-কে ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে ইসরো। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে আগামী দিনে আরও সাফল্যের সঙ্গে চাঁদে নামার পরিকল্পনা করা যাবে বলেই জানিয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।