দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ২১ দিন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ২১ দিন পরে লকডাউন উঠলেও দেশের সব জায়গার পরিস্থিতি এক হবে না বলেই জানাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। করোনা হটস্পটগুলির জন্য আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। সম্প্রতি ২০ পাতার এক স্বাস্থ্যবিধি প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
এই স্বাস্থ্যবিধিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু সব জায়গায় সংক্রমণ সমান নয়। এই মুহূর্তে ভারতের ২৭৪টি জেলা করোনা আক্রান্ত। যে যে জায়গায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, বা যেখান থেকে বাকি সব জায়গায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সেই জায়গাগুলিকে একমাস সিল করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ সেখানে শেষ পজিটিভ রিপোর্টের পর অন্তত এক মাস আর কোনও পজিটিভ রিপোর্ট আসবে না, ততদিন এই বিধিনিষেধ থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে তা তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের জারি করা এই স্বাস্থ্যবিধিতে বলা হয়েছে, যে সব জায়গা সিল করা হবে, সেখানে সন্দেহভাজন ও আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যাঁদের মধ্যে উপসর্গ কম দেখা যাবে তাঁদের স্টেডিয়ামে আইসোলেশনে রাখা হবে। যাঁদের মধ্যে উপসর্গ মাঝারি থাকবে, তাঁদের হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হবে। আর যাঁদের উপসর্গ বেশি দেখা যাবে তাঁদের করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তৈরি বিশেষ হাসপাতালে রাখা হবে। যদি কোনও আক্রান্তের শরীরে পরপর দু’বার কোভিড ১৯ পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তখনই তাকে ছাড়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সেসব এলাকায় এই স্বাস্থ্যবিধি জারি থাকবে, সেখানে স্কুল, কলেজ, অফিস কিছুই খোলা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। গণপরিবহণও বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র জরুরি পরিষেবা চলবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এই বিধিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জার কিছু লক্ষ্মণও দেখা গয়েছে। তাই এই লক্ষ্মণ দেখা দিলেও সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট দিয়ে সেই পরীক্ষা করে দেখা হবে। সাধারণত যেখানে জনঘনত্ব বেশি সেখানে এই ভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা হলেও বেশি।
এই স্বাস্থ্যবিধিতে বলা হয়েছে, এখনও ভারতের ৪৬২ জেলায় করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারেনি। তাই যে জায়গাগুলো এখনও করোনা মুক্ত রয়েছে সেখানে যাতে কোনওভাবেই সংক্রমণ না ছড়ায় তার জন্য করোনা হটস্পটগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই হটস্পটগুলির উপরেই বেশি নজর রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।