দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্থনীতির ক্ষত দ্রুত মেরামত না করলে চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ভাগে ভারতকে মন্দা গ্রাস করবে বলে.আশঙ্কা প্রকাশ করলেন কেন্দ্রের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৃষ্ণমূর্তি সুব্রহ্মণ্যম। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, "দ্রুত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার বিষয়ে আমি আশাবাদী। কিন্তু তা যদি না করা যায়, তাহলে চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ভাগে মন্দার কবলে পড়বে ভারত।" আগের সমস্ত ব্যবস্থার প্রভাব আর নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
২০১৯-২০ আর্থিক বছরের শেষ কোয়ার্টারে (জানুয়ারি-মার্চ) মোট জাতীয় উৎপাদন দাঁড়িয়েছিল ৩.১ শতাংশে। সুব্রহ্মণ্যম বলেছেন, কোভিড মহামারী রুখতে যে সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তার ফলেই এই অধোগতি। তাঁর কথায়, কর্পোরেট ছাড়, সুদের হার কমানোর মতো পদক্ষেপ অধোগতির ধারাকে রুখতে পারেনি।
২৫ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়েছিল দেশে। ফলে গত অর্থবর্ষের শেষ কোয়ার্টারের মধ্যে মাত্র একটি সপ্তাহ পড়েছিল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, জানুয়ারি থেকে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত জিডিপি-র অমন খারাপ অবস্থা কেন দাঁড়াল? কেন্দ্রের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, "লকডাউন মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে হলেও ফেব্রুয়ারি থেকেই আঘাত শুরু হয়ে গিয়েছিল। খরচ কমানো, বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনা অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।"
সম্প্রতি রেটিং সংস্থা মুডিজ ভারতের অর্থনৈতিক রেখাচিত্র পতনের পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। তা নিয়ে রাজনীতিও হয়েছে বিস্তর। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুডিজের সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে চোখা আক্রমণ শানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। যদিও সুব্রহ্মণ্যম বলছেন, ওই রেটিংয়ে শুধু ভারত নয়, পৃথিবীর ৩০টি বৃহৎ অর্থনীতির দেশেই অর্থনৈতিক অধোগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে অ্যাকাউন্টে সরাসরি নগদ ট্রান্সফারের দাওয়াই দিয়েছেন বহু অর্থনীতিবিদ। তাঁদের বক্তব্য ছিল গরিব মানুষের হাতে যদি টাকা না থাকে তাহলে অর্থনীতির যে স্বাভাবিক চক্র তা ধাক্কা খাবে। অর্থাৎ টাকা না থাকলে যেমন চাহিদা তৈরি হবে না, তেমনই উৎপাদন ব্যবস্থাও সচল হবে না। সেই তত্ত্বকে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এমএসএমই সেক্টরে বিশেষ নজর দিয়েছে। এর ফলেই নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
তবে তিনি ওই সাক্ষাৎকারে এও বলেছেন, ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের কারণেই এই অর্থনৈতিক স্লো ডাউনের সূত্রপাত। তিনি বলেন, একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের কারণেই এই অর্থনৈতিক অধোগতি শুরু হয়েছিল।"