দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তার ফলে বন্ধ ব্যবসা-বাণিজ্য-দোকান। এর ফলে রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হচ্ছে। তার মধ্যে করোনা মোকাবিলায় তহবিল গড়ায় ভাঁড়ার ফাঁকা হচ্ছে প্রায় সব রাজ্যের। আর তাই এই পরিস্থিতিতে যদি কোনও সাহায্য না পাওয়া যায় তাহলে সরকারি কর্মচারীদের মে-জুন মাসের বেতন দিতে পারবে না বলেই জানিয়ে দিল অসম সরকার।
সোমবার অসমের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান। তিনি বলেন, “এপ্রিল মাসের বেতন আমরা দিতে পারব। কিন্তু মে মাসের প্রথম সপ্তাহের পর কী হবে জানি না। কী ভাবে সরকারের রাজস্ব কাজ করবে জানি না। ৭ মে’র পরে বেতন দেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব।” অর্থমন্ত্রী আরও জানান, “জুন মাসে সরকারের পক্ষে কিছু দেওয়ারই ক্ষমতা থাকবে না। যদি আমরা রাজ্যের সম্পদের বাইরে কোনও সাহায্য না পাই, তাহলে বেতন দেওয়া সমস্যা হয়ে যাবে।”
চলতি বছর বাজেটে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা অগস্ট মাস থেকে আগামী বছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এমনকি এই সময় কর কাঠামোর কোনও পরিবর্তন করতে হলে জিএসটি কাউন্সিলের অনুমতি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বশর্মা বলেন, “রাজ্যের অধিকার হিসেবে আমরা কেবলমাত্র পেট্রল, ডিজেল ও মদের উপর কর বসাতে পারি। আমরা পেট্রল-ডিজেলের কর বাড়াতে পারি। কিন্তু তার জন্য রাজ্যবাসীর সমস্যা হবে কিনা সেটা আমাদের দেখতে হবে। এটা তখনই সম্ভব যদি পেট্রল-ডিজেলের দাম কমে। তাহলে কর বাড়ালেও মানুষের অসুবিধা হবে না।”
এই পরিস্থিতিতে রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অসমের অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অসমের আর্থিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। এখন দেখার কেন্দ্রের তরফে অসম সরকারকে কোনও সাহায্য করা হয় কিনা।
অবশ্য শুধু অসম নয়, সব রাজ্যই বর্তমানে এই সমস্যায় রয়েছে। রাজ্যগুলির রাজস্ব আদায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তারমধ্যে দোকান-পাঠ, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থের লেনদেন হচ্ছে কম। তার উপর করোনা মোকাবিলায় খরচের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ফলে রাজস্ব ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে বিভিন্ন রাজ্যকে আর্থিক সাহায্য পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু তারপরেও সমস্যায় পড়ছে রাজ্যগুলি। যেমনটা হয়েছে অসমের। এখন দেখার এই পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলিকে বের করে আনার জন্য কেন্দ্রের তরফে ফের কোনও অনুদানের ঘোষণা করা হয় কিনা।