‘দেশবিরোধী’ কর্মসূচি করলেই কড়া শাস্তি, নির্দেশিকা বম্বে আইআইটির
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোস্টেলের মধ্যে বা ক্যাম্পাস চত্বরে কোনও ছাত্র দেশবিরোধী কর্মসূচি করতে পারবেন না, এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করল বম্বে আইআইটি। ওই নির্দেশিকা ইমেলের মাধ্যমে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বম্বে আইআইটির তরফে ওই নির্
শেষ আপডেট: 29 January 2020 08:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোস্টেলের মধ্যে বা ক্যাম্পাস চত্বরে কোনও ছাত্র দেশবিরোধী কর্মসূচি করতে পারবেন না, এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করল বম্বে আইআইটি। ওই নির্দেশিকা ইমেলের মাধ্যমে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বম্বে আইআইটির তরফে ওই নির্দেশিকায় স্বাক্ষর রয়েছে ডিন (স্টুডেনটস অ্যাফেয়ার্স)-এর। তবে দেশবিরোধী কর্মসূচি বলতে ঠিক কোন কোন কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি ওই নির্দেশিকায়।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সারা দেশের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বম্বে আইআইটির পড়ুয়ারাও বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। এমনকী জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হিংসার ঘটনার প্রতিবাদেও কর্মসসূচি নিতে দেখা গিয়েছিল আইআইটির পড়ুয়াদের। সেই সময়ে মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা বিজয় গোয়েল সরাসরি বম্বে আইআইটি কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অনেকের ধারণা, বিজেপি নেতার চাপেই এমন নির্দেশিকা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
হোস্টেলের শান্তি ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে লেখা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। কোনও ধরনের দেশবিরোধী পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, লিফলেট বা অন্যান্য প্রচারপত্র বিলি বা লাগানোর অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই ১৫ দফা নির্দেশিকায়। বম্বে আইআইটি কড়া ভাবে বলেছে, ২৮ জানুয়ারি থেকে এই নির্দেশিকা বলবৎ হবে। না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে অভিযুক্ত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে।
এই সময়কালের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে বম্বে আইআইটির ক্যাম্পাস আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে। মধ্যরাতে জামিয়া মিলিয়ার ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠির বাড়ির প্রতিবাদে মধ্যরাতেই হোস্টেল ছেড়ে ক্যাম্পাসে নেমে এসে মশাল মিছিল করেছিল বম্বে আইআইটির পড়ুয়ারা। অনেকের মতে, সেই জায়গাটাকেই বন্ধ করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।
ক্যাম্পাসের মধ্যে নেশা, র্যাগিং ইত্যাদির মতো দেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিকেও যে কর্তৃপক্ষ কঠোর হাতে দমন করবে তা পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে শুক্রবার সাধারণ সভা ডেকেছে ছাত্ররা। তাঁদের তরফে বলা হয়েছে, ওই জিবি বৈঠকেই ঠিক হবে এই ফ্যাসিস্ত সুলভ নির্দেশিকার বিরুদ্ধে কী ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা যায়। তাঁদের বক্তব্য, আইআইটির পড়ুয়ারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সারা দেশ যখন আন্দোলনে নেমেছে তখন তার একটা বাস্তবতা আছে। সেটা না বুঝে জোর করে তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কর্তৃপক্ষের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।