দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে যে ১০ জন কংগ্রেস বিধায়ক ও দুই মন্ত্রী চার্টার্ড বিমানে বেঙ্গালুরুতে উড়ে গিয়েছিলেন এদিন তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোনও আগ্রহ দেখাননি বলে জানিয়েছে একটি সংবাদমাধ্যম। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্রোহী বিধায়কদের একটা বড় অংশ আজ সকালে বলেছেন, “আমরা মহারাজার জন্য এসেছিলাম, বিজেপিতে যোগ দিতে নয়।”
উত্তরাধিকার সূত্রে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এখন গোয়ালিয়রের মহারাজা। সেজন্য কংগ্রেসের কর্মীরা অনেকেই তাঁকে মহারাজা বলে সম্বোধন করেন। রাজস্থান মধ্যপ্রদেশে সেই সামন্ততান্ত্রিক বাতাবরণ এবং কোথাও বা এ ধরনের স্থানীয় ঐতিহ্য এখনও রয়েে গিয়েছে। জ্যোতিরাদিত্য যেমন গোয়ালিয়রের মহারাজা, তেমনই কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহ হলেন রাঘোগড়ের রাজা। সে যাক। সূত্রের খবর, এইসব নেতাদের দিকে নজর রাখছে বিজেপি, এই নেতাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সমস্যা রয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে বিজেপিতে।
সোমবার মধ্যপ্রদেশের মোট ১৯ জন বিধায়ক একটি চার্টার্ড বিমানে বিজেপি-শাসিত কর্নাটকে উড়ে গিয়েছিলেন। তখনই পনেরো মাসের কমলনাথ সরকার বিপাকে পড়ে যায়। এই বিধায়করা সকলেই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার অনুগামী বলে পরিচিত।
রাজ্যের এক প্রবীণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের কথায়, এটা ঠিকই যে জ্যোতিরাদিত্য ঘনিষ্ঠ অনেক কংগ্রেসি বিধায়ক ও মন্ত্রী কমলনাথের নেতৃত্বে স্বচ্ছন্দ্যে ছিলেন না। তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছিলেন না। কিন্তু এও ঠিক তাঁরা বিজেপি পরিবারে গিয়েও কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, এঁদের আনুগত্য জ্যোতিরাদিত্যর প্রতি থাকলেও মতাদর্শগত ভাবে এঁরা বিজেপি বিরোধী। তাই ভিতরে ভিতরে অনেকেই ওজর আপত্তি তুলতে শুরু করেছেন। জ্যোতিরাদিত্যর কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ এঁদেরকে ঐক্যবদ্ধ রেখে বিজেপিতে সামিল করানো।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, মধ্যপ্রদেশে বিজেপির অন্দরেও যে সুখের পরিবেশ তা নয়। মতবিরোধ দেখা দিয়েছে সেখানেও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সমর্থকদের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বিজেপির বিধায়ক নরোত্তম মিশ্রের সমর্থকদের। অথচ কমলনাথ সরকারকে উৎখাত করার সবচেয়ে বেশি চেষ্টা এঁরাই একযোগে করেছিলেন। কিন্তু এখন নরোত্তমও সিংহাসন চাইতে শুরু করেছেন।
মোটের উপর মধ্যপ্রদেশের পরিস্থিতি এখনও তরল অবস্থাতেই রয়েছে। আপাত ভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি শিবিরই। কারণ, কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা ইস্তফা দিলে সংখ্যার তাকতে গেরুয়া শিবির এগিয়ে থাকবে। তবে কমলনাথও বিনাযুদ্ধে সিংহাসন ছাড়তে নারাজ। তাই নতুন কোনও নাটকীয় পরিবর্তন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না কোনওপক্ষই।