দিল্লিতে বিএসএফ জওয়ানের বাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হল, হামলাকারীদের হুমকি 'ইধার আ পাকিস্তানি'
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা পাঁচদিন ধরে তাণ্ডব চলছে দিল্লিতে। রাজধানী শহরের উত্তর-পূর্বাংশে পুড়েছে একাধিক বাড়ি। তার মধ্যেই ছিল খাজুরি খাস এলাকার ৭৬ নম্বর বাড়িটিও। মালিক বিএসএফ জওয়ান মহম্মদ আনিস। বাড়ির মূল ফটকের উপরেই জ্বলজ্বল করছে নেমপ্লেট। সেটা
শেষ আপডেট: 28 February 2020 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা পাঁচদিন ধরে তাণ্ডব চলছে দিল্লিতে। রাজধানী শহরের উত্তর-পূর্বাংশে পুড়েছে একাধিক বাড়ি। তার মধ্যেই ছিল খাজুরি খাস এলাকার ৭৬ নম্বর বাড়িটিও। মালিক বিএসএফ জওয়ান মহম্মদ আনিস। বাড়ির মূল ফটকের উপরেই জ্বলজ্বল করছে নেমপ্লেট। সেটা দেখে অন্তত দুষ্কৃতীরা দু'বার থমকাবে বলে অনুমান করেছিলেন বাড়ির বাসিন্দারা। কিন্তু নাহ সেসব একেবারেই হয়নি। বরং বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি দেখেও রেয়াত করেনি তাণ্ডবকারীরা। উল্টে আক্রমণের সঙ্গে চলেছে স্লোগান, "ইধার আ পাকিস্তানি, তুঝে নাগরিকতা দেতে হ্যায়।"
গত মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হয়েছিল খাজুরি খাস এলাকায়। বিএসএফ জওয়ানের দোতলা বাড়ি ঘিরে ফেলে দুষ্কৃতীরা। প্রথমেই বাইরে দাঁড়ানো একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। তারপর ক্রমাগত বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। এরপরেই জ্বলন্ত একটি সিলিন্ডার ছুঁড়ে মারা হয় আনিসের বাড়ির দিকে। সে সময় ঘরেই ছিলেন মহম্মদ আনিস, তাঁর বাবা-মা এবং ছোট বোন। গন্ডগোল ক্রমশ বাড়ছে এই আভাস পেয়েই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। এরপর আধা সেনার সাহায্যে কোনওমতে নিস্তার পান সকলে।

২০১৩ সালে বিএসএফ-এ যোগদান করেছিলেন মহম্মদ আনিস। তারপর তিন বছর জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পোস্টিং ছিল তাঁর। কয়েকদিন পরেই আনিস এবং তাঁর বোন দু'জনেরই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বাড়িতে রাখা ছিল বিয়ের গয়না এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস। তবে আগুনের গ্রাসে ঝলসে গিয়েছে সবই। পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়। সাধ করে বানাও বাড়ি সবই এখন পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে, কালো দেওয়ালের মধ্যে থেকে আসছে পোড়া গন্ধ। আশেপাশে জমেছে ছাইয়ের পুরু আস্তরণ। আনিসের বাবা-মা জানিয়েছেন ইনস্টলমেন্টে গয়না কিনেছিলেন ছেলেমেয়ের বিয়ের জন্য। বাড়িতে ছিল নগদ ৩ লাখ টাকা। সবই ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
খাজুরি খাসের যে এলাকায় মহম্মদ আনিসের বাড়ি সেই জায়গায় বাস অনেক হিন্দু পরিবারের। আনিসের পরিবার জানিয়েছেন তাঁদের মহল্লার কেউ এই ঘটনায় জড়িত নয়। বরং দুষ্কৃতীদের বারবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন আনিসদের প্রতিবেশীরা। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা গাড়ি আর বাড়ির ভিতরের আগুন নেভাতেও সবার এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয়রাই। শোনা গিয়েছে, ওই এলাকায় অন্তত ৩৫টি বাড়ি ইতিমধ্যেই পুড়ে খাক হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দিল্লি হিংসার বলি হয়েছেন ৪২ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত ৩০০-র বেশি।