দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখ নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সাম্প্রতিক যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে শনিবার দুই দেশের সেনার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পরে দুই দেশই শান্তিপূর্ণ ভাবে সমস্যা মেটাতে রাজি হয়েছে বলে জানাল কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রক।
এদিন বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, “এই আলোচনা খুবই ভাল পরিবেশের মধ্যে হয়েছে। দু’দেশই শান্তিপূর্ণ ভাবে সীমান্ত সমস্যা মেটাতে রাজি হয়েছে। ভারত ও চিন দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে যেসব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে, সেইসব চুক্তির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ ইন্দো-চিন সীমান্ত এলাকা দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, “এই বছর ভারত ও চিন দু’দেশের মধ্যে শুরু হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর হচ্ছে। তাই এই সম্পর্ক আগামী দিনে কী ভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে দু’দেশই আগ্রহী। নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের তরফে দু’দেশের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ফেরানোর সব চেষ্টা করা হবে।”
ভারতের তরফে শনিবার এই বৈঠকের আর্জি জানানো হয়। চুসুল-মোলডোতে ইন্ডিয়ান বর্ডার পয়েন্ট মিটিং হাট-এ হয় এই আলোচনা। ভারতীয় সেনার তরফে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১৪ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। চিনের তরফে টিবেট মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের কম্যান্ডার ছিলেন বৈঠকে।
এই সমস্যার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে। লাদাখ ও সিকিমে টহল দেওয়ার সময় বারবার লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল অতিক্রম করে ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে চিনা সেনা। তার ফলেই দু’দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ৫ ও ৬ মে প্যাঙ্গং লেক এলাকায় দু’দেশের সেনার মধ্যে লাঠি-রড নিয়ে সংঘর্ষ হয়। ভারতের তরফে অনেকবার এই অভিযোগ করার পরেও পাত্তা দেয়নি চিনা সেনা।
এই সংঘর্ষের পরেই লাদাখের একাধিক এলাকা যেমন, ডেমচোক, প্যাঙ্গং লেক, গালওয়ান রিভার বেসিন, গোগরা পোস্টে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করে চিনা সেনা। লাদাখের উত্তর অংশেও নিজেদের গতিবিধি বাড়ায় চিন।
ভারতের অভিযোগের পাল্টা চিনের তরফে অভিযোগ করা হয়, প্যাঙ্গং লেক এলাকায় রাস্তা তৈরি করেছে ভারত। ডার্বুক-শায়োক-দৌলত বেগ এলাকায় আরও একটি রাস্তা তৈরি করার চেষ্টা করছে তারা। এই রাস্তা তৈরি করে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা ভারতই করছে বলে অভিযোগ করে চিন। যদিও নয়াদিল্লির তরফে দাবি করা হয়, চিনের এই অভিযোগ সত্যি নয়। এর আগে ভারত-চিনের মধ্যে ২০১৭ সালে পূর্ব হিমালয়ের ডোকলামে এক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। প্রায় তিন মাস ধরে এই পরিস্থিতি ছিল।
শনিবারের এই বৈঠকের আগে শুক্রবার ভারত ও চিনের তরফে দাবি করা হয়, বিবাদ ভুলে শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে চাইছে দু’দেশ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (পূর্ব এশিয়া) নবীন শ্রীবাস্তব ও চিনের বিদেশমন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল উ জিয়াংঘাও বৈঠক করেন।
গত মঙ্গলবার ভারত- চিন এই সমস্যা নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তার আগেই অবশ্য ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দু’দেশ চাইলে তিনি এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করতে রাজি। যদিও ভারতের তরফে কোনও দিন বিদেশি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়নি। চিনও ট্রাম্পের এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।