দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ হাথরাসের ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকারেরই সমালোচনা ও নিন্দা করলেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। তিনি জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিজেপির ভাবমূর্তিই খারাপ হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ও পরে মৃত্যু হওয়া দলিত তরুণীর বাড়ির চারপাশে যে সব পুলিশ পাহাড়ায় রয়েছে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্ত হয়ে উত্তরাখণ্ডের একটি হাসপাতালে রয়েছেন উমা ভারতী। সেখান থেকেই শনিবার সকালে ৯টি টুইট করে নিজের মনের কথা বলেন তিনি। যোগী আদিত্যনাথের কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন, যাতে সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিরোধী দল সবাইকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। যেভাবে তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, সেই কাজেরও নিন্দা করেছেন তিনি।
হিন্দিতে টুইট করে উমা ভারতী বলেন, “একজন দলিত পরিবারের মেয়ে ছিল ও। পুলিশ ওর দেহ তাড়াতাড়ি করে পুড়িয়ে দিল আর এখন ওর পরিবার ও গ্রামকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম কিছু বলব না, কারণ আপনি (পড়ুন যোগী আদিত্যনাথ) নিশ্চয় এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কিন্তু যেভাবে পুলিশ নির্যাতিতার পরিবার ও গোটা গ্রামকে ঘিরে রেখেছে তাতে এটাই মনে হচ্ছে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগই সত্যি।”
বিজেপি নেত্রী আরও বলেন, “আমি জানি না শুধুমাত্র স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত করছে বলে কোনও পরিবার কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবে না, এমন কোনও নিয়ম আছে কিনা। এই কাজ করে সিটের তদন্তের উপরেই সন্দেহ তোলা হচ্ছে। আমরা সম্প্রতি রামমন্দিরের শিলান্যাস করেছি। আমরা দাবি করছি দেশে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এই আচরণে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিজেপির ভাবমূর্তিই খারাপ হচ্ছে।”
যোগী আদিত্যনাথকে এই বিষয়ে পদক্ষেও নেওয়ার আবেদনও করেন উমা ভারতী। তিনি বলেন, “আপনার ভাবমূর্তি খুবই পরিষ্কার। তাই আমি চাইব সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি আপনি দেবেন। আমার করোনাভাইরাস না হলে আমিও ওই পরিবারের সঙ্গে বসে থাকতাম। আমি ছাড়া পাওয়ার পরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করব। আমি আপনার বড় দিদির মতো। আমার আবেদন মেনে নেওয়ার অনুরোধ করছি আপনাকে।”
হাথরাসের ঘটনা নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল গোটা দেশ। সব বিরোধী দলগুলি সরাসরি সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। হাথরাসে যাওয়ার পথে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে। গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকেও ঢুলতে দেওয়া হয়নি সেখানে। এমনকি গ্রামের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না সংবাদমাধ্যমকেও। এই ঘটনায় যোগী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে গোটা দেশে। একই রকমের সমালোচনা এবার শোনা গেল বিজেপি বর্ষীয়ান নেত্রী উমা ভারতীর কাছ থেকে।