দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ রাজ্যের বিধানসভায় ভরাডুবি হয়েছে বিজেপি'র। সামনেই উনিশের লড়াই। আর তাই তার আগে জনসাধারণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিল বিজেপি। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের একটা চেন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। সাধারণ কর্মী থেকে জাতীয় স্তরের নেতা, সবাই এর মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে খবর।
দিল্লিতে এই প্রক্রিয়া প্রথম শুরু করা হচ্ছে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ দিল্লিতে আম আদমি পার্টিকে হারানোর জন্যই এই মন্ত্র দিয়েছেন বলে খবর। দিল্লিতে বিজেপি'র বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিজেপির জাতীয় সাধারন সম্পাদক ( অর্গানাইজেশন ) রাম লাল জানিয়েছেন, "সামনের বছর জানুয়ারি মাসের মধ্যেই পান্না প্রমুখদের সঙ্গে জাতীয় স্তরের নেতাদের নিয়ে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়ে যাবে।" পান্না প্রমুখদের প্রধান দায়িত্ব হলো নিজের এলাকায় ভোটার তালিকার একটা পেজের ( পান্না ) ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা।
বুথ স্তরের কর্মীদের জন্যও দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন রাম লাল। তিনি বলেছেন, যাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করেন না, এরকম পরিবারকে চিহ্নিত করে প্রত্যেক বুথ স্তরের কর্মীর উচিত অন্তত ১০ টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা। তাঁদেরকে বোঝানো, যাতে উনিশের নির্বাচনের আগে তাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করেন। রাম লাল বলেন, "যদি বিজেপি'র প্রত্যেকটি কর্মী ১০টি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তাহলে লোকসভা নির্বাচনের আগে দিল্লিতে প্রায় ২৫ লক্ষ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

সাধারণ সম্পাদক রাম লাল আরও জানান, প্রত্যেক পান্না প্রমুখদের উচিত এলাকার 'প্রভাবশালী ব্যক্তিদের' একটি তালিকা তৈরি করা। তারপর তাঁদের একসঙ্গে বসিয়ে নরেন্দ্র মোদীর 'মন কি বাত' অনুষ্ঠান শোনানো উচিত। বুথ ইনচার্জদেরও দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। তাঁদের বলা হয়েছে, গত নির্বাচনে কী কারণে বিজেপি'র হার হয়েছে, সেই কারণ খুঁজে বের করা। তারপর সেই অনুযায়ী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা।
এছাড়াও গোটা দিল্লি জুড়ে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। একটি স্লোগানও দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। স্লোগান হলো, 'কংগ্রেস দেশ লুটাতি হ্যায়, রাহুল ঝুট বোলতে হ্যাঁয়।'
এই পদ্ধতি দিল্লি থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে দেশজুড়ে চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাতে গোটা দেশের সব কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে পারেন, তার জন্যই এই অভিনব উপায়। ১৪'র লোকসভা নির্বাচনের আগে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে দেশজুড়ে সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। সেই পদ্ধতিকেই এ বারও ব্যবহার করতে চাইছেন মোদী-শাহ জুটি। এখন দেখার এই পদ্ধতিতে কতটা সুবিধা করে উঠতে পারে বিজেপি।