দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বিজেপি পার্টি অফিসে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জড়ো হতে শুরু করেছিলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু দিনে আয়োজন কড়া হয়েছিল স্মরণানুষ্ঠানের। কিন্তু সেখানেই ঘটল বিপত্তি। অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান ভোপালের বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর।
হইহই পড়ে যায় বিজেপি পার্টি অফিসে। তারপর সাংসদকে তুলে চেয়ারে বসিয়ে চোখেমুখে জল ছিটিয়ে, হাওয়া করে নেত্রীর জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন দলীয় কর্মীরাই। কয়েক মিনিট পর জ্ঞান ফেরে বিতর্কিত বিজেপি নেত্রীর।
সাংসদের অসুস্থতার খবর পেয়ে পার্টি অফিসে ছুটে আসে তিনজন চিকিৎসক। তাঁরা জানিয়েছেন, রক্তচাপজনিত সমস্যার কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন প্রজ্ঞা। ভোপালের সাংসদ এমনিতে ক্যানসার আক্রান্ত। গত এপ্রিল মাসে তাঁর তিনটি অস্ত্রোপচার হয়। মে মাংসের শেষ দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন প্রজ্ঞা। সেই সময় টানা দেড় সপ্তাহ ভর্তি ছিলেন নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল সায়েন্সেস তথা এইমস হাসপাতালে।
প্রজ্ঞা ঠাকুর মানেই বিতর্ক। তা সংসদ কক্ষ হোক বা বিমানের সিট। গতবছর সংসদ অধিবেশনের মধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে ভোপালের সাংসদ মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক বলে উল্লেখ করেছিলেন। তারপর সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। এতটাই চাপ তৈরি হয় বিজেপির উপর, দলের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানানো হয়। ক্ষমা চান প্রজ্ঞাও। গত ডিসেম্বরেই বিমানের সিটে বসা নিয়ে বিমানকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন এই বিজেপি সাংসদ। ৪৫ মিনিট দেরিতে উড়েছিল বিমান। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এদিন দেশ জুড়েই শ্যামাপ্রাসাদের স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল বিজেপি। টুইট করে শ্রদ্ধা জানান নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। কলকাতায় ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মালা দেন দিলীপ ঘোষ-সহ রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব।