দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে ফের গৌরবের সঙ্গেই ‘দেশভক্ত’ বলে মন্তব্য করলেন ভোপালের বিজেপি সাংসদ তথা মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ঠাকুর।
এদিন লোকসভায় স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ সংশোধন বিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেই বিতর্কে অংশ নিয়ে ডিএমকে সাংসদ এ রাজা নাথুরাম গডসের একটি বিবৃতি পড়ে শোনাচ্ছিলেন—‘কেন তিনি হত্যা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধীকে।’ রাজাকে তাঁর বক্তৃতার মাঝেই থামিয়ে দিয়ে প্রজ্ঞা ঠাকুর বলেন, “আপনি এভাবে একজন দেশভক্তের উদাহরণ দিতে পারেন না!”
এমনিতেই মহারাষ্ট্র পর্বের পর বিরোধীরা সংসদে টগবগ করে ফুটছে। তাঁর মধ্যে প্রজ্ঞার এই মন্তব্য যেন ফোঁড়নের কাজ করে। তীব্র প্রতিবাদ জানান কংগ্রেস সহ বিরোধী বেঞ্চে বসে থাকা সদস্যরা।
বিতর্কে অংশ নিয়ে এদিন ডিএমকে সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ রাজা বলেছিলেন, নাথুরাম গডসে নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে ৩২ বছর ধরে মহাত্মা গান্ধীর উপর তাঁর রাগ ছিল। শেষমেশ নাথুরাম তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, গডসে একটা নির্দিষ্ট মতাদর্শে বিশ্বাস করত।
বিরোধীরা সাংসদরা সমস্বরে আপত্তি করায় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা এর পর প্রজ্ঞাকে বসে পড়তে বলেন। কিন্তু তাতেও দমে যেতে চাননি সাধ্বী। তিনি বলেন, কাল এর জবাব দেব।
এর আগে লোকসভা ভোটের সময়েও নাথুরাম গডসেকে দেশভক্ত বলেছিলেন প্রজ্ঞা। তখন তা নিয়ে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ছি ছি পড়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে এধরনের মন্তব্য করা নিন্দাজনক, সভ্য সমাজে অচল। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, উনি ক্ষমা চাইতে পারেন, কিন্তু আমি ওনাকে কখনওই ক্ষমা করব না।
লোকসভা ভোটে শেষ পর্যন্ত ভোপাল থেকে জয়ী হন প্রজ্ঞা। কিন্তু তার পরেও বিতর্কিত মন্তব্য করা ছাড়েননি। ভোপালে দলের একটি কর্মসূচিতে গিয়ে এও বলেছিলেন, যে নর্দমা পরিষ্কার করার জন্য আমি সাংসদ পদে নির্বাচিত হইনি।
তাৎপর্যপূর্ণ হল কদিন আগে প্রজ্ঞা ঠাকুরকে সংসদের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তা নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে এখনও অভিযুক্ত এক মহিলাকে কীভাবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য করতে পারে সরকার। যদিও বিরোধীদের আপত্তিতে কর্ণপাত করেনি সরকার। আর তার পরেই লোকসভায় এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন প্রজ্ঞা।