দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে শকুনের সংখ্যা দিনদিন কমছে। এই পরিস্থিতিতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ত্রিপুরা সরকার। আর তাই ত্রিপুরায় শকুন সংরক্ষণ প্রকল্প চালু করতে চান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। রাজ্যের বন দফতরকে সেই নির্দেশও দিয়ে দিয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে ত্রিপুরার খোয়াই জেলাতে তৈরি করা হবে এই প্রকল্প। কারণ, সম্প্রতি এই জেলায় বেশ কিছু শকুন দেখা গিয়েছে। বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কল্যাণপুর এলাকায় ২৬টি শকুন দেখা গিয়েছে। তার মধ্যে ১০টি শকুন দেখা গিয়েছে খোয়াই-এর ছেবরি এলাকায়। আর তাই সেখানেই এই প্রকল্প বানাতে চায় বন দফতর।
বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "খোয়াই জেলার কল্যাণপুর ও ছেবরিতে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি শকুন দেখা গয়েছে। তাই আমরা ঠিক করেছি সেখানেই শকুন সংরক্ষণ প্রকল্প তৈরি করবো। প্রাথমিক পর্যায়ে শকুনের থাকা বা খাওয়ার অনুকূল অবস্থা তৈরি করতে হবে। সেইমতো শিমুল গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কারণ শিমুল গাছে থাকতে এই পাখি সবথেকে বেশি পছন্দ করে।"
তবে শুধু খোয়াই নয়, দক্ষিণ ত্রিপুরা ও সিফাজিলা জেলাতেও বেশ কিছু শকুনের দেখা মিলেছে। বন দফতরের ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, "শকুন মূলত মরা মাংস খেয়ে পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে। তাই আমাদের বাস্তুতন্ত্রে শকুনের খুব বড় ভূমিকা রয়েছে। খোয়াইয়ের প্রকল্প কাজে দিলে অন্যান্য জায়গাতেও এই প্রকল্প চালু করার ভাবনা আছে।"
কিন্তু কী কারণে হঠাৎ করে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে এই প্রজাতি?
ত্রিপুরাতে মূলত 'হোয়াইট রামপড ভালচার' দেখা যায়। এই ধরণের শকুনের গলার কাছে সাদা রংয়ের পালক থাকে। জানা গিয়েছে, এই শকুনের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো এক ধরণের ওষুধের ব্যবহার। এই ওষুধ ব্যথা কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গত কয়েক মাসে পশুপালকরা পশুদের উপরেও এই ওষুধ ব্যবহার করছিলেন। তাতে সাময়িক উপকার পেলেও পরে সেই পশুর মৃত্যু হচ্ছিল। আর সেইসব পশুর মরা মাংস খেয়ে এই অবস্থা হয়েছে শকুনদের। কিডনি খারাপ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাদের।
ত্রিপুরা সরকারের এই প্রকল্পকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপকরা। তাঁদের বক্তব্য, বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে গেলে সব ধরণের প্রাণীর প্রয়োজন আমাদের রয়েছে। আর এই বাস্তুতন্ত্রে শকুন একটা প্রধান ভূমিকা পালন করে। এই প্রাণী না থাকলে বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হবে। আর তাই ত্রিপুরা সরকার যে এই ধরণের প্রকল্প নিয়েছে তা সত্যিই খুব ভালো।