
শেষ আপডেট: 5 January 2019 20:46
এই বিক্ষোভের প্রসঙ্গে বিন্দু বলেন, "মন্দিরে প্রবেশ করা নিয়ে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ও অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাঁদের সংখ্যা অনেক কম। অনেক বেশি মানুষ মন্দিরের মধ্যে প্রবেশ করায় তাঁদের প্রশংসা করেছেন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।" এমনকী মন্দিরের বেসক্যাম্পে পৌঁছানোর পর প্রশাসনের তরফেও সাহায্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে চেপে তাঁরা মন্দিরের বেসক্যাম্পে গিয়ে হাজির হন। তারপর সেখান থেকে সাদা পোশাকের পুলিশের ঘেরাটোপে সবার নজর এড়িয়ে মন্দিরের পাশের একটি দরজা দিয়ে তাঁরা ভেতরে ঢোকেন। যতক্ষণে ব্যাপারটা বাকিদের নজরে এসেছে, ততক্ষণে তাঁদের প্রার্থনা করা হয়ে গিয়েছে। বিন্দু ও কনক দুর্গার পর শুক্রবার ৪৬ বছরের আরেক শ্রীলঙ্কান মহিলা শবরীমালা মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করেছেন।
মন্দিরে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও এখনও ভয় দেখানো হচ্ছে তাঁদের। যাতে বিক্ষোভকারীরা তাঁদের কোনও ক্ষতি করতে না পারে, তাই জন্য পুলিশি সুরক্ষায় তাঁদের গোপন ডেরায় রাখা হয়েছে। বিন্দু ও কনক দুর্গা চান, তাঁদের দেখাদেখি আরও বেশি সংখ্যায় ঋতুমতী মহিলারা যেন শবরীমালায় প্রবেশ করেন। তবেই এই প্রথা ভাঙা যাবে বলে তাঁদের মত।
শতাব্দীপ্রাচীন এই কেরলের শবরীমালা মন্দিরের নিয়ম হলো, ঋতুমতী মহিলারা এই মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করতে পারেন না। তাহলে নাকি মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হয়। এই নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল। মাসখানেক আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, সব বয়সের মহিলারা শবরীমালায় প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেও মন্দিরের সেবায়েত, ভক্ত ও কিছু দক্ষিণপন্থী সংগঠনের জন্য কোনও ঋতুমতী মহিলা শবরীমালায় প্রবেশ করতে পারছিলেন না। বিন্দু ও কনক দুর্গা প্রথম দুই মহিলা, যাঁরা এই অসাধ্য সাধন করেছেন।