ওরাই আছে এর পিছনে, আমি আহত, রিয়াজ ভাই লড়ছে, এনকাউন্টার চলাকালীন জঙ্গিদের কলরেকর্ড ফাঁস
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোপন সূত্রে সেনার কাছে আগেই খবর এসেছিল যে মঙ্গলবার পুলওয়ামার বেইঘপোরা গ্রামে নিজের বাড়িতে যাবে হিজবুল কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে রিয়াজের গতিবিধি সেনাকে জানিয়েছিল হিজবুল মুজাহিদিনের ব
শেষ আপডেট: 7 May 2020 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোপন সূত্রে সেনার কাছে আগেই খবর এসেছিল যে মঙ্গলবার পুলওয়ামার বেইঘপোরা গ্রামে নিজের বাড়িতে যাবে হিজবুল কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে রিয়াজের গতিবিধি সেনাকে জানিয়েছিল হিজবুল মুজাহিদিনের বিপক্ষ জঙ্গি গোষ্ঠী। এবার জানা গেল সেই জঙ্গি সংগঠনের নাম। আর তারাই যে সেনাকে খবর পাচার করেছে একথা প্রমাণও হয়েছে এনকাউন্টারের আগে রিয়াজের সহকারীর করা একটি ফোন থেকে।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে একটি ফোনকলের রেকর্ড। যেখানে ওয়াহিদ ভাই নামক কারও সঙ্গে এনকাউন্টারের চলাকালীনই কথা বলতে শোনা গিয়েছে রিয়াজ নাইকুর সহকারীকে। বুধবার বেইঘপোরায় নাইকুর সঙ্গে সেনার নজরবন্দি হয়েছিল এই জঙ্গিও। ওই ফোনে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমরা পুলওয়ামার বেইঘপোরায় ফেঁসে গিয়েছি। আমি চোট পেয়েছি। তবে রিয়াজ ভাই এখনও লড়ছে। এ ইসবের পছনে রয়েছে তানজিম। ওদের থেকে সাবধানে থেকো। ওরা আমাদেরকে কাশ্মীরকে ধ্বংস করে দেবে।“
ওই কল রেকর্ডে রিয়াজের সঙ্গী যে তানজিমের কথা উল্লেখ করেছিল সেটা আদতে দ্য রেসিসটেন্স ফ্রন্টের (টিআর এফ) সঙ্গে যুক্ত কোনও সংকেত। কিংবা ওই জঙ্গি সংঠনের কারও নাম। উপত্যকায় লস্কর-ই-তৈবার প্রধান শাখা হিসেবে কাজ করে এই জঙ্গি সংগঠন টিআরএফ। হিজবুলের সঙ্গে তাদের সংঘাত যে চরমে একথা স্পষ্ট হয়েছে ওই কল রেকর্ড থেকে। অনুমান, তাদের বিবাদ এতই চরমে যে বিশ্বাসঘাতকতা করে নাইকুর ব্যাপারে সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য তাই সেনার হাতে তুলে দিতেও পিছপা হয়নি এই জঙ্গি সংগঠন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় নিজের গ্রাম বেইঘপোরায় পৌঁছয় হিজবুল মুজাহিদিনের কুখ্যাত কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু। এই খবর আগে থেকেই ছিল নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে। রিয়াজ যে নিজের বাড়িতে যাবে সে কথাও জানত তারা। সেই মতোই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ-এর সঙ্গে যম্মিলিত ভাবে অভিযান শুরু করে ভারতীয় সেনা। প্রায় ৮ বছর ধরে সেনার মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল এই রিয়াজ নাইকু। বার তিনেক ধরা পরেও চম্পট দেয় সে। তবে এবার আর টার্গেট মিস হয়নি নিরাপত্তাবাহিনীর। এনকাউন্টারে খতম হয়েছে হিজবুলের কুখ্যাত কম্যান্ডার।
২০১২ সালে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দেয় রিয়াজ নাইকু। অঙ্কের শিক্ষক থেকে কুখ্যাত জঙ্গি হয়ে ওঠা নাইকুর মাথার দাম ছিল ১২ লাখ টাকা। উপত্যকায় ত্রাস তৈরি করেছিল সে। হিজবুলের কম্যান্ডার পদে আসীন হওয়ার পর বেপরোয়া ভাব আরও বেড়ে গিয়েছিল। তরুণ প্রজন্মকে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ানো থেকে শুরু করে হুমকি চিঠি পাঠানো----রিয়াজের জুড়ি মেলা ভার। তবে অবশেষে খেল খতম হয়েছে হিজবুলের এই মোস্ট ওয়ান্টেড কম্যান্ডারের।