দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ের চূড়ো থেকে চাপ চাপ বরফ নেমে এসে নদী উপত্যকায় ভাঙন ধরিয়েছে। হিমবাহ ভাঙা জলে ধৌলিগঙ্গায় প্লাবন হয়েছে। জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। ধৌলিগঙ্গা যেখানে অলকানন্দায় মিশেছে সেখানে বড় বড় বরফের চাঙড়ে ভরে গেছে। তুষারধসে ঢেকেছে নদী উপত্যকা। প্ল্যানেট ল্যাবের ছবি বিপর্যয়ের আগে ও পরের দৃশ্য সামনে এনেছে।
উত্তরাখণ্ডে নন্দাদেবী হিমবাহে ফাটল ধরে রবিবার রাতে। হিমবাহ ভেঙে ভয়ঙ্কর প্লাবন হয় চামোলি জেলার রেইনি গ্রামে। বন্যার জল ভাসিয়ে নিয়ে যায় জোশীমঠের কাছে রেইনি গ্রামকে। ভীষণ জলের তোড়ে ভেসে যায় দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অলকানন্দার জলে ১০ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় দেড়শো জন। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শতাধিক শ্রমিকের খোঁজ মিলছে না। উত্তরাখণ্ড পুলিশের ডিজি অশোক কুমার জানিয়েছেন, তপোবন অঞ্চলে আড়াইশ মিটার এক টানেলে ৩০-৩৫ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
হিমবাহ ভেঙেই এই বিপর্যয় হয়েছে কিনা সে নিয়ে আলোচনা চলছে এখনও। সোমবার ডিআরডিও-র এক বিজ্ঞানী বলেছেন, হিমবাহের ঝুলন্ত অংশ ভেঙে পড়ে এই ঘটনা ঘটেছে। হিমবাহ ভাঙা জলেই ধৌলিগঙ্গা, ঋষিগঙ্গা ও অলকানন্দা জলস্তর বেড়ে গিয়ে প্রবল বন্যা হয়েছে। ডিআরডিও-র ডিফেন্স জিও ইনফর্ম্যাটিকস রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্টের ডিরেক্টর এল কে সিনহা র বক্তব্য, হিমবাহের ঝুলন্ত অংশের একটি ভাগ খসে পড়ে চামোলিতে। পাহাড়ি খাঁজের সঙ্কীর্ণ হ্রদ তাতে প্লাবিত হয়। সেই জলই প্রবল স্রোতে ভেসে এসে ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র রাওয়াতের বক্তব্য, হিমবাহ ভাঙার কারণে নয়, পাহাড়ের ওপর জমে থাকা বরফ ধসে পড়েই এই বিপর্যয় হয়েছে। তিনি বলেন এই বিষয়ে বিজ্ঞানী ও সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, পাহাড়ের মাথায় যে বরফ জমেছিল সেটাই ভেঙে পড়ে। কারণ উপগ্রহ চিত্রে বিপর্যয়ের আগে পাহাড়ের চূড়োয় বরফ জমে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেই চাপ চাপ বরফের চাঁই ধসে পড়ে হড়পা বানের সৃষ্টি করেছিল ধৌলিগঙ্গায়। নদীর জলস্তর বেড়ে তাই ভয়ঙ্কর বন্যা হয় আশপাশের গ্রামগুলিতে।
বন্যার পর থেকেই পুরোদমে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। জোশীমঠে একটি ৩০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শীনগর, ঋষিকেশ, জলিগ্রান্ট ও দেহরাদুনের হাসপাতালকে তৈরি রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে উদ্ধারের কাজ করছে এনডিআরএফের ৮টি দল। এছাড়া রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও আইটিবিপির দুটি দল রয়েছে। ছয় কোম্পানি সেনাও মোতায়েন হয়েছে সেখানে। এছাড়া খনন করতে দক্ষ নৌবাহিনীর এমন সাতটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।