দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’মাস আগে তাকে উদ্ধার করে আনা হয়েছিল কর্নাটকের মাইসোর চিড়িয়াখানায়। আর এই দু’মাসের মধ্যে চিড়িয়াখানার প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ছ’মাসের বেদবতী। প্রতিদিন তার কার্যকলাপ মাতিয়ে রাখে চিড়িয়াখানার সব্বাইকে। তার সঙ্গে মাহুত সোমুর সম্পর্কের রসায়ন যে কোনও জুটিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে বেদবতীর এই মজার কাণ্ডকারখানা।
সম্প্রতি জুজ অফ কর্নাটক নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্টে দুটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। দুটিই বেদবতী আর তার মাহুত সোমুর। প্রথম ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সোমুর পাশে বাধ্য মেয়ের মতো হাঁটতে হাঁটতে আসছে বেদবতী। যেন কত গল্প হচ্ছে দুজনের। তারপরে একজনের সঙ্গে কথা বলার জন্য সোমু দাঁড়াতেই বেদবতীকে দেখা গেল তার পায়ের কাছে চুপটি করে দাঁড়িয়ে শুঁড় দিয়ে তার সঙ্গে খেলতে। ভাবখানা এমনই শুঁড় দিয়ে সোমুর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে সে। যেন বলছে, এই আমিও আছি, আমার সঙ্গে হাঁটবে চলো।
https://twitter.com/ZKarnataka/status/1282632526125600768?s=19
দ্বিতীয় ভিডিওটি আরও মজার। সেখানে দেখা যাচ্ছে সোমু দৌড়চ্ছে। আর তার পিছনে পিছনে দৌড়চ্ছে বেদবতী। নির্দিষ্ট ছন্দে ছুটে চলেছে সে। যেন সেটা তার কাছে এক মজার খেলা।
https://twitter.com/ZKarnataka/status/1282634467866062849?s=19
ইতিমধ্যেই এই দুটি ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবাই সোমু ও বেদবতীর এই রসায়নকে চেটেপুটে উপভোগ করছেন। কেউ তো লিখেছেন, লকডাউন মিটলেই মাইসোর চিড়িয়াখানায় যাবেন এই ছোট্ট বাচ্চা হাতিকে দেখতে।
মাইসোর চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, অনাথ বাচ্চা হাতিদের দেখভাল করতে সোমুর জুড়ি মেলা ভার। এর আগেও অনেক অনাথ হাতির বাচ্চাকে বড় করেছে সে। আর তাই যখন বেদবতীকে উদ্ধার করে আনা হয়, তাকেই দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই দু’জনের ভাল বন্ধুত্ব হয়ে যায়। দু’মাস আগে মাত্র ৮৯ কেজি ওজন ছিল বেদবতীর। মাত্র দু’মাসের মধ্যে ২০ কেজি ওজন বেড়ে এখন তার ওজন ১১০ কেজি।
বেদবতী নাকি হাঁটতে আর দৌড়তে খুব ভালবাসে। তাই দিনে তিনবার সোমুর কাজ হল বেদবতীকে নিয়ে হাঁটা। তারপরে খানিক ছুটে বেড়ায় তারা। এভাবেই সবাইকে মাতিয়ে রাখে ছোট্ট বেদবতী।