দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে করোনা মোকাবিলা করার জন্য যে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তার আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া বিমান পরিষেবা। লকডাউনের মেয়াদ ফের বাড়াতে চলেছে কেন্দ্র। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিমান পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রেও মানতে হবে কিছু শর্ত।
২৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হয়। তার কয়েক দিন আগেই প্রথমে আন্তর্জাতিক ও তারপর ঘরোয়া বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র কার্গো বিমান ও কিছু বিশেষ বিমান পরিষেবা চালু থাকে। কিন্তু এই লকডাউনের একটা বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিমান সংস্থাগুলির উপর। তার ফলে লকডাউন বাড়লেও বিমান পরিষেবায় কেন্দ্র কিছু ছাড় দিতে পারে বলেই সূত্রের খবর।
সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এর তুলনায় ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে যাত্রীর সংখ্যা ১৪.১ শতাংশ কমেছে। আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জঙ্গিহানার পর থেকে এই প্রথম যাত্রী সংখ্যা এত শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে আইএটিএ।
একই ছবি দেখা গিয়েছে ভারতেও। বেশিরভাগ বেসরকারি বিমানসংস্থাকে কর্মীদের বেতনে কাটছাঁট করতে হয়েছে। কোথাও আবার দেখা দিয়েছে কর্মী ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক। এমনকি এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বিমানসংস্থাতেও দেখা গিয়েছে একই ছবি। যদিও কার্গো বিমান ও বিশেষ কিছু বিমান চলাচল করেছে তার পরেও ছবিটা যথেষ্ট ভয়ের।
সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে শনিবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তোলার বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতের অর্থনীতিকে নতুন করে চালু করতে কিছু ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে কেন্দ্রকে। মোদী সব রাজ্যগুলিকে বার্তা দিয়েছেন, জীবনের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকেও বাঁচাতে হবে আমাদের।
জানা গিয়েছে, শিগগির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্তক জানিয়ে দেবে, কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হল। কৃষি ছাড়াও কলকারখানা ও কিছু উৎপাদন ক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারে কেন্দ্র। তার মধ্যে বিমান পরিষেবাও রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রেও হয়তো কিছু শর্ত মেনে চলতেই হবে। কারণ, অর্থনীতিকে বাঁচাতে ছাড় দিতে হলেও করোনা সংক্রমণের দিকেও ভাবতে হবে সরকারকে। সব মিলিয়ে একটা পথ নিতে চাইছে কেন্দ্র।