দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়েছিল দেশে। তারপর তিনবার লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছে কেন্দ্র সরকার। ৩১ মে শেষ হবে চতুর্থ দফার লকডাউন। কিন্তু তারপর কী হবে?
সেই রোড ম্যাপ ঠিক করতেই এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সচিবালয়ে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্যে এবং রাজ্যগুলির পাঠানো তথ্য, পরিসংখ্যান পর্যালোচনার কাজ চলছে।
ইতিমধ্যেই শর্তসাপেক্ষে অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কাদায় পড়ে যাওয়া অর্থনীতির চাকাকে তুলতে উৎপাদন শুরুর অনুমতি দিয়েছে সরকার। কিন্তু তার সঙ্গে কেন্দ্রকে ভাবাচ্ছে সংক্রমণের মাত্রা। গত ১২-১৪ দিনে ব্যাপক হারে সংক্রমণ বেড়েছে। গত ১৪ মে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল কমবেশি ৭৭ হাজার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী আজ ২৮ মে সেই সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে এক লক্ষ ৫৮ হাজারে।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক শীর্ষ সারির আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, অনন্তকাল যেমন লকডাউন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় তেমন সংক্রমণের মাত্রা যে হারে বাড়ছে তাতেও লাগাম টানা প্রয়োজন। তাই ১জুন থেকে কী ভাবে সব চলবে তার একটা পথ বের করার চেষ্টা চলছে। গত কয়েকদিন ধরেই এই কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় বিপর্যয় আইন সারা দেশে কার্যকর রয়েছে। সেই কারণে রাজ্য তালিকায় থাকা স্বাস্থ্য এখন কেন্দ্রের বিষয়। ৩১ মে-র পর কী হবে তা নিয়েই পর্যালোচনা চলছে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে। জাতীয় বিপর্যয়ের যে আইন বলবৎ হয়েছে তা কার্যকর থাকবে না রাজ্যগুলির হাতে সবটা ছাড়া হবে তা নিয়ে আলোচনা করছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
ইতিমধ্যেই হিমাচল প্রদেশ সরকার ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল জানা গিয়েছিল, সংক্রমণের মাত্রা উদ্বেগজনক জায়গায় থাকা ছ'টি মেট্রো শহর এবং অন্য বেশ কয়েকটি শহরে আরও দু'সপ্তাহ লকডাউন কার্যকর থাকবে। তার মধ্যে রয়েছে কলকাতাও। কারণ দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, আমদাবাদের মতো শহরে সংক্রমণের হার ব্যাপক। তা ছাড়াও রয়েছে ইন্দোর, পুণে, ঠাণের মতো শহরগুলি। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে মোট কোভিড আক্রান্তের ৭০ শতাংশই শহরের তার মধ্যে আবার ছ'টি মেট্রো শহর সবার উপরে।
তবে গত ১২-১৪ দিনে গ্রামীণ ভারতে সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। বাংলাই তার অন্যতম উদাহরণ। অনেকের মতে, এর প্রধান কারণ পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা।
কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কী হবে ১ জুন থেকে?