দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে দেশের অন্যতম বড় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দায়িত্ব নিল ভারতীয় সেনা। এই সেন্টারে একসঙ্গে প্রায় ১৫০০ জনকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা সম্ভব। বর্তমানে সেখানে ৯৩২ জন তবলিঘি জামাত সদস্যদের রাখা হয়েছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪০ জনের একটি দল এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দায়িত্ব নিয়েছে। এই দলে ৬জন মেডিক্যাল অফিসার ও ১৮ জন প্যারামেডিক্যাল কর্মী রয়েছেন। উত্তর-পূর্ব দিল্লির নারেলাতে তৈরি করা হয়েছে এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার।
সূত্রের খবর, এই সেন্টারে বর্তমানে ৯৩২ জন রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজামুদ্দিনের মসজিদে জমায়েতে গিয়েছিলেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে ৩৬৭ জন কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের আলাদা করে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
করোনা মোকাবিলায় প্রথম থেকেই দিল্লি সরকারকে সাহায্য করছে ভারতীয় সেনা। জানা গিয়েছে, দিল্লির ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অন্য কর্মীদের উপর চাপ কিছুটা কমাতেই এই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে সেনা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা চিকিৎসা চলবে বলে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর ৪০ জনের দল সেই সেন্টারেই থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
এই বিষয়ে একটা সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “প্রথমে তবলিঘি জামাতের ওই জমায়েতে অংশ নেওয়া ২৫০ জন বিদেশিকে এই সেন্টারে রাখা হয়েছিল। পরে আরও ১০০০ জনকে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে বর্তমানে ৯৩২ জন রয়েছেন এই সেন্টারে।” এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “সেনার ডাক্তার, নার্সদের ব্যবহারে মুগ্ধ এখানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীরা। তাঁরা চিকিৎসকদের সঙ্গে সবরকমের সহযোগিতা করছেন। তাই খুব সুন্দরভাবে সব কাজ করা হচ্ছে।”
সেনার তরফে জানানো হয়েছে, দেশের এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। তাই সেনার তরফে তাঁদের যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া আগামী দিনেও চালু রাখা হবে বলেই জানানো হয়েছে। সবাই মিলে দেশ থেকে করোনা সংক্রমণ দূর করা যাবে বলেই আশাবাদী সেনা।