দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদ থেকে ২১০০ মানুষকে বের করে আনা হল। এখনও পর্যন্ত এই জমায়েতে অংশ নেওয়া প্রায় ১০০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। সোমবার থেকে চলা এই প্রক্রিয়ায় অবশেষে সবাইকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। ছ’তলা বিল্ডিংয়ের ডরমিটরিতে একসঙ্গেই ছিলেন সবাই। প্রত্যেককে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এই জমায়েতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের খুঁজে বের করছে বিভিন্ন রাজ্য। জমায়েতে অংশ নেওয়া বিদেশিদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে সব রাজ্যকে জানানো হয়েছে ৮ থেকে ১০ মার্চ এই জমায়েতে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের খুঁজে বের করতে। ইতিমধ্যেই এই জমায়েতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের মধ্যে তামিলনাড়ুতে ৫০, দিল্লিতে ২৪, তেলেঙ্গানায় ৬, অন্ধ্রপ্রদেশে ৪, আন্দামানে ১০ এবং অসম ও জম্মু-কাশ্মীরে একজনের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। এই জমায়েতে অংশ নেওয়া ৮২৪ জন বিদেশির তথ্যও সব রাজ্যগুলিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লাভ আগরওয়াল বলেছেন, “এই মুহূর্তে দোষারোপ করে কিছু হবে না। তার থেকে আমরা কত তাড়াতাড়ি সম্ভব জমায়েতে অংশ নেওয়া সবাইকে খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পারি সেদিকে নজর দিতে হবে।” স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে ২১ মার্চ ওই বিল্ডিংয়ে ১৭৪৬ জন ছিলেন। এছাড়াও আরও ২১৬ বিদেশিও ছিলেন সেখানে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে ২১৩৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়ে গিয়েছে। তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এখনও তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর ও আন্দামানে জমায়েত থেকে ফেরা প্রতিনিধিদের খোঁজ চলছে।
জানা গিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাইল্যান্ড, নেপাল, মায়ানমার, কিরঘিজস্তান, সৌদি আরব, আফগানিস্তান, আলজিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স ও কুয়েত থেকে প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। কেন্দ্রের তরফে লকডাউনের আগে দিল্লি সরকার সবরকমের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। তারপরেও এই জমায়েতের ব্যাপারে কেন প্রশাসনকে জানানো হয়নি, সেই অভিযোগ তুলে মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে দিল্লি পুলিশ। যদিও মসজিদ কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধিরা ফিরে যাওয়ার সময় লকডাউনের কারণে ফিরতে পারেননি। তাই তাঁরা ফের মসজিদে ফিরে আসেন।