দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের খারাপ প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। বড় ধাক্কা খেয়েছে অসামরিক বিমান পরিষেবা। দু’মাসের উপর বন্ধ থাকার পরে শুরু হয়েছে অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা। আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা এখনও বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিমান কোম্পানিতে টাকার সমস্যা মেটাতে কর্মচারীদের নতুন প্রস্তাব দিল এয়ার ইন্ডিয়া। ৬০ শতাংশ বেতন নিয়ে সপ্তাহে তিনদিন কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হল তাঁদের।
শুক্রবার এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এই ‘শর্টার ওয়ার্কিং উইক স্কিম’-এর ঘোষণা করা হয়। এই স্কিমের আওতায় পাইলট ও কেবিন ক্রু ছাড়া বাকি স্থায়ী কর্মীরা চাইলে সপ্তাহে তিনদিন কাজ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেতন তাঁদের দেওয়া হবে। এই শর্তে রাজি থাকলে তাঁদের কাজ করতে কোনও সমস্যা নেই বলেই জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। এই প্রস্তাবে যাঁরা রাজি থাকবেন তাঁদের চাকরি যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত এক বছর এভাবে কাজ করতে হবে তাঁদের। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বিমান সংস্থা। তবে এই সময়ে সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে অন্য কোনও কাজ কর্মীরা করতে পারবেন না বলেই জানিয়েছে বিমান সংস্থা। অর্থাৎ ৬০ শতাংশ বেতনেই তাঁদের চালাতে হবে। করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের পরে লাভের অঙ্ক বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া।
শুধু এয়ার ইন্ডিয়া নয়, লকডাউনের পর প্রায় সব বিমান সংস্থা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেশিরভাগ সংস্থা থেকেই কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেক কর্মীর আবার বেতন কাটা গিয়েছে। যেমন এয়ার ইন্ডিয়ার উঁচু পদে থাকা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এক বছর বিনা বেতনে কাজ করবেন তাঁরা। নিজে থেকেই এই পদক্ষেপ তাঁরা নিয়েছেন। সবটাই করা হয়েছে বিমান সংস্থাগুলিতে ফের টাকার যোগান বাড়ানোর জন্য।
প্রায় দু’মাস পরিষেবা বন্ধ থাকার পরে গত ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা। কিন্তু এখনও সব বিমান চলাচল করছে না। কিছু কিছু বিমান চালানো হচ্ছে। পুরো পরিষেবা স্বাভাবিক হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা এখনও বন্ধ রয়েছে। কবে তা পুনরায় শুরু হবে তার কোনও খবর নেই।
এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে লোকসানে চলছে এয়ার ইন্ডিয়া। সরকারের তরফে এই বিমান সংস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের ফলে তা ফের বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি দেনায় রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। তাই এই পরিস্থিতিতে পরিষেবা চালু রাখার জন্য কর্মীদের এই প্রস্তাব দিয়েছে বিমান সংস্থা।