দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার কাশ্মীরের নির্বাচন কমিশনার স্থানীয় ব্লক পর্যায়ের ভোট ঘোষণা করেছেন। তারপর গত আড়াই মাস ধরে গৃহবন্দি থাকা বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে মুক্তি দিল প্রশাসন। প্রশাসনিক শীর্ষ সূত্রকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি বলেছে, সমস্ত নেতাকে না ছাড়া হলেও, বেশ কয়েকজন নেতাকে মুক্তি দিয়েছে প্রশাসন। তাঁদের চলাফেরার উপর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বিধিনিষেধও।
এই তালিকায় রয়েছেন দেবেন্দ্র সিং রাণা, রমণ ভল্লা, হর্ষদেব সিং, চৌধুরীলাল সিং, ভিকার রসুল, জাভেদ রাণা, সাজ্জাদ আহমেদের মতো নেতারা। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা দেবেন্দ্র রাণা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুক্তির কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি ওই সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের।
জানা গিয়েছে জম্মু রিজিওনে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তাই সেখানকার নেতাদের মুক্তি দিয়েছে প্রশাসন। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ধাপে ধাপে অন্য অংশের নেতাদেরও গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রের দাবি।
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া এবং দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার সময় থেকেই উত্তপ্ত কাশ্মীর। যাতে বাড়তি উত্তেজনা না ছড়ায়, সে কারণে ৪০০-র বেশি রাজনৈতিক নেতাকে সতর্কতামূলক গ্রেফতার ও গৃহবন্দি করে প্রশাসন। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, তেমন রয়েছেন ওমর আবদুল্লাহও। ৮৩ বছরের ফারুক আবদুল্লাহকেও গৃহবন্দি করে প্রশাসন।
অগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মেহবুবা মুফতির মেয়ে। বলেছিলেন, কাশ্মীর যেন একটা খাঁচা। আর রাজনৈতিক নেতারা যেন সেই খাঁচাবন্দি জন্তু। বন্ধ করে দেওয়া ল্যান্ডলাইন পরিষেবা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে কাশ্মীরে। বেশ কিছু জায়গায় চালু হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। দু’দিন আগেই অমিত শাহ বলেছিলেন, “ওখানে কোনও বিধিনিষেধ নেই। সব বিধিনিষেধ বিরোধীদের মনে।” এ বার রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেওয়ার কাজও ধীরে ধীরে শুরু করল প্রশাসন।
তবে বিরোধী দলগুলি পঞ্চায়েতের ব্লক স্তরের ভোট বয়কট করবে বলেই এখনও পর্যন্ত স্থির। এখন দেখার বাকি নেতাদের কবে মুক্তি দেয় প্রশাসন।