যোগী এলেন না, পুলিশি নিরাপত্তায় শেষকৃত্য উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবারের দাবি ছিল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ না আসা পর্যন্ত শেষকৃত্য হবে না। অবশেষে দীর্ঘক্ষণ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পর শেষকৃত্যে রাজি হলেন তাঁরা। রবিবার দুপুরে উন্নাওয়ের ধর্ষিতা মৃত তরুণীর শেষকৃত্যে হাজির হয়েছিলেন অসংখ্
শেষ আপডেট: 8 December 2019 10:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবারের দাবি ছিল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ না আসা পর্যন্ত শেষকৃত্য হবে না। অবশেষে দীর্ঘক্ষণ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পর শেষকৃত্যে রাজি হলেন তাঁরা। রবিবার দুপুরে উন্নাওয়ের ধর্ষিতা মৃত তরুণীর শেষকৃত্যে হাজির হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। ছিল বিশাল পুলিশি নিরাপত্তা।
রবিবার সকালে তরুণীর পরিবারের তরফে দাবি করা হয়, আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁদের বাড়িতে এসে দেখা করবেন, তারপরে মৃত তরুণীর শেষকৃত্য হবে। তারপর প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে লখনৌয়ের ডিভিশনাল কমিশনার মুকেশ মেশরম পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলেন। অনেক বোঝানোর পর তাঁরা রাজি হন। দুপুরেই হয় শেষকৃত্য।
শুক্রবার যোগী আদিত্যনাথ দুই মন্ত্রীকে পাঠিয়েছিলেন ওই তরুণীর বাড়িতে। তাঁরা গিয়ে কথা বলেছেন মৃতার পরিবারের সঙ্গে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ওই পরিবারকে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অন্তর্গত দুটি পাকা বাড়িও করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। তবে মৃতার বাবা জানিয়েছেন, তিনি লোভী নন। বাড়ি তাঁর চাই না। শুধু চান তাঁর মেয়ের সঙ্গে যারা এমন করেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়। নয়তো হায়দরাবাদের মত গুলি করে মারা হয়। সরকার এবং প্রশাসনের কাছে একই দাবি মৃতার দাদারও। তিনি বলেন, “বোন বেঁচে থাকতে ওদের ফাঁসি দেখতে চেয়েছিল। ও তো আর নেই। তাই এই পাঁচজন বেঁচে থাকুক সেটাও চাই না।”

উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে আরও বলা হয়েছে, পরিবার তাঁদের কাছে জানিয়েছেন, তাঁদের এখনও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই ২৪ ঘণ্টা তাঁদের সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তরুণীর দাদাকে একটি লাইসেন্সযুক্ত বন্দুক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তরুণীর বোনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রায়বরেলির আদালতে সাক্ষী দিতে যাচ্ছিলেন উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণী। সেই সময় তাঁর উপর আক্রমণ করে অভিযুক্তরা। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে তরুণীর গ্রামেই ঘোরাফেরা করছিল তারা। সেদিন তরুণী ট্রেন ধরার জন্য রেল গেটের কাছে আসতেই তাঁকে টেনে হিঁচড়ে পাশের ঝোপে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে কোপ মারা হয় তরুণীকে। তারপর পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় তাঁকে।
জ্বলন্ত অবস্থায় এক কিলোমিটার ছোটেন তরুণী। স্থানীয় এক পথচারীর থেকে মোবাইল নিয়ে ফোন করে নিজেই খবর দেন পুলিশে। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৯০ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে লখনউয়ের হাসপাতালে ভর্তি হন তরুণী। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়ে অপরাধীর নামও জানান তিনি। এরপর ৫ অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে তরুণীকে নিয়ে আসা হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। শুক্রবার রাতে ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয় তরুণীর। চিকিৎসকরা জানান, প্রথম থেকেই দ্রুত ক্ষত বাড়ছিল তরুণীর। অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। তবে শুক্রবার রাতে ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ হার্ট অ্যাটাক হয় তরুণীর। এর মিনিট কুড়ির মধ্যেই লড়াই থেমে যায় উন্নাওয়ের ধর্ষিতার।