দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করতে পারবে বেসরকারি কোম্পানিরাও। সম্প্রতি এমনই ১৮টি কোম্পানিকে এই অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া ( ডিজিসিআই )। এমনকি এই কোম্পানিগুলির মধ্যে বেশিরভাগকেই পরীক্ষা করার কিট বিক্রি করারও অনুমতি দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ ( আইসিএমআর )।
এমনই এক কোম্পানি ট্রিভিট্রন হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান জিএসকে ভেলু জানিয়েছেন, “আমরা যেহেতু ডিজিসিআই ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির ( পুনে ) অনুমতি পেয়ে গিয়েছি, তাই আমরা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার কিট ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দামের মধ্যে আমরা বিক্রি করা শুরু করব।” ট্রিভিট্রন হেলথকেয়ারই প্রথম কোম্পানি যারা এই করোনা পরীক্ষা করার অনুমতি পেয়েছে।
এই কিটের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা সম্ভব বলেই জানিয়েছেন ভেলু। তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিতে মাত্র ৪-৬ ঘণ্টার মধ্যে টেস্টের রিপোর্ট চলে আসবে। এই কিটের মাধ্যমে কোনও ল্যাবে দিনে ১০০ থেকে ১০০০টা পর্যন্ত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। আমাদের চেন্নাইয়ের ল্যাবে যদি তিন শিফটে কাজ করা যায়, তাহলে আমরা এক দিনে ৫ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ টেস্ট করতে পারব।” এই মুহূর্তে এনআইভি পুনেতে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে সেইসব কিট।
এই রকমেরই আর একটি সংস্থার নাম রোশে ডায়গনস্টিকস সেন্টার। এই সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের তরফে ভারতে প্রথম সার্স কোভিড ২ টেস্টের অনুমতি পেয়েছে। এই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডক্টর শ্রবণ সুব্রহ্মন্যম জানিয়েছেন, “আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে সার্স কোভিড ২ পরীক্ষা করার কিট বিদেশে পাঠানোর। বিদেশে এই কিট পরীক্ষা করে দেখার পরেই ভারতে এই কিট বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেব আমরা। আমাদের তৈরি কিটে পরীক্ষার ফল ৩ ঘণ্টার মধ্যে চলে আসবে।”
জানা গিয়েছে, এইসব কোম্পানিগুলি যে কিট তৈরি করেছে তা ভারতের বিভিন্ন বড় বড় ডায়গনস্টিক সেন্টারে বিক্রি করা হবে। এর ফলে আরও সহজে যে কেউ করোনা আক্রান্ত কিনা তার পরীক্ষা করা সহজ হবে। তাড়াতাড়ি পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেলে চিকিৎসাও অনেক তাড়াতাড়ি শুরু করা যাবে। বর্তমানে ভারতে যে কয়েকটি নমুনা পরীক্ষা করার সেন্টার রয়েছে সেখানে অনেক বেশি চাপ পড়ছে। ফলে রিপোর্ট হাতে পেতে দু-তিনদিন লেগে যাচ্ছে। সেই সমস্যা দূর করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ দেশজুড়ে ৫১টি বেসরকারি ল্যাবরেটরিকে এই করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করার অনুমতি দিয়েছে। এই মুহূর্তে আইসিএমআর-এর আওতায় ৭২টি এবং সিএসআইআর, ডিআরডিও ও অন্যান্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজের আওতায় ৪৯টি ল্যাবরেটরি কাজ করছে। কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সপ্তাহের মধ্যে দেশজুড়ে আরও ১২১টি ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে। একবার এগুলো চালু হয়ে গেলে করোনা মোকাবিলায় ভারত অনেকটাই এগিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।