দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাও যোগে গ্রেফতার হওয়া কবি তথা সমাজকর্মী ভারভারা রাওয়ের পরিবার এবার চিঠি লিখল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। গত ১৬ জুলাই জেলবন্দি ভারভারা রাওয়ের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তারপর তাঁকে মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও তথ্য পরিবারকে জানাচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে চিঠি দিয়ে ভারভারা রাওয়ের পরিবার লিখেছে, “তালোজা জেল থেকে প্রথমে ভারভারাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেন্ট জর্জেস হাসপাতালে। তারপর সেখান থেকে তাঁকে ভর্তি করা হয় নানাবতী হাসপাতালে। কিন্ত এর পর তিনি কেমন আছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না, না কি তিনি আরও অসুস্থ হয়েছেন—এসব ব্যাপারে আমরা কিছুই জানতে পারছি না।” ৮০ বছরের কবির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা মানবাধিকার কমিশনকে এও লিখেছেন, “আমরা নানাবতী হাসপাতালের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনও তথ্য দিচ্ছে না।” কাতর আর্জি জানিয়ে কবির পরিবার লিখেছে, “দয়া করে আমাদের জানানো হোক, উনি কেমন আছেন।”
২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ভিমা-কোরেগাঁও এলাকায় এক দলিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলমাল হয়েছিল। দক্ষিণপন্থী একটি গোষ্ঠী এবং দলিতদের সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছিল মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই ঘটনার পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ন’জন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে এলগার পরিষদ মামলা রুজু হয়। অভিযোগ, এলগার পরিষদের সঙ্গে সরাসরি নকশালপন্থী তথা নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই মাওবাদীদের যোগ রয়েছে।
তার চার্জশিটে পুলিশ অভিযোগ করে, ওই কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে কোনও সাক্ষ্যপ্রমাণ এখনও হাজির করতে পারেনি পুলিশ। ২০১৮ সালের অগস্ট মাসে পুণের পুলিশ প্রথম গ্রেফতার করেছিল ভারভারা রাওকে। তবে আদালতের নির্দেশের পরে সে বার তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল প্রমাণের অভাবে। ওই বছরের নভেম্বরে তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক ভাবে পুণের ইরাভাদা কারাগারে বন্দি রাখার পরে তাঁকে মুম্বইয়ের জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। অথচ এক মাস আগেই বিশেষ আদালতে খারিজ হয়ে গেছে কবি ভারাভারা রাওয়ের জামিনের আবেদন। বম্বে হাইকোর্টে আবারও আবেদন করা হলেও তা এখনও এজলাসে ওঠেনি। শুধু তাই নয়, ২০১৮ থেকে বারবার অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য আবেদন করেছেন কবি নিজে।