দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষক আন্দোলনের সমর্থন করতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি টুলকিট ব্যবহার করেছিলেন গ্রেটা থুনবার্গ। সেই টুলকিট তৈরি করে ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। এই টুলকিট তৈরি করার অভিযোগ তুলে বেঙ্গালুরু থেকে দিশা রবি নামের ২২ বছরের এক তরুণীকে গ্রেফতারও করেছে তারা। তাঁর বিরুদ্ধে এবার ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনল দিল্লি পুলিশ।
রবিবার দিশাকে দিল্লির একটি আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর হয়ে লড়ার জন্য কোনও আইনজীবী পাওয়া যায়নি। আদালতে দাঁড়িয়ে দিশা জানান, তিনি ওই টুলকিট তৈরি করেননি। তিনি শুধুমাত্র কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে নিজের মত রাখতে গিয়ে ওই টুলকিট ব্যবহার করেছিলেন। টুলকিটের দু-তিনটে লাইন তিনি এডিট করেছিলেন বলেই জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আদালতে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, “দিশা রবি টুলকিট গুগল ডক-এর একজন এডিটর ও এই মামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী। খালিস্তানপন্থী গ্রুপ পোয়েটিক জাস্টিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল তারা। দেশের শান্তি ও অখণ্ডতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা হয়েছিল।”
দু’তরফে বক্তব্য শুনে দিশাকে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বিরোধীদের কাছ থেকে। কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ, পি চিদম্বরম, শশী থারুর, শিবসেনার প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদি, সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি প্রমুখ নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এই সমস্ত কাজ করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। যাঁরা সমাজের কাজ করছেন, যাঁরা সত্যি বলার চেষ্টা করছেন, তাঁদের আওয়াজ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী দিনে যাতে কেউ আর সরকার বিরোধী মন্তব্য না করতে পারে তার জন্য আগে থেকেই ভয় দেখিয়ে রাখা হচ্ছে। দেশের গণতন্ত্রকে নষ্ট করার চেষ্টা মোদী সরকার করছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। শুধু রাজনীতিবিদরাই নন, সমাজকর্মী, শিল্পী, কবি ও সমাজের নানা স্তর থেকে প্রতিবাদ হয়েছে এই ঘটনার।
বেঙ্গালুরুতে ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ নামের একটি ক্যাম্পেন চালান দিশা। তিনি বেঙ্গালুরুর মাউন্ট কারমেল কলেজের ছাত্রী। তাঁর গ্রেফতারির পরে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল ফোর্সের কমিশনার প্রবীর রঞ্জন বলেছিলেন, “২৬ জানুয়ারির ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে আগে থেকেই এর পরিকল্পনা হয়েছিল। ভারতের বিরুদ্ধে আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আহ্বান করা হয়েছিল ওই টুলকিটে। সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ধর্মে ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করার অভিযোগে আমরা আগেই মামলা দায়ের করেছিলাম।”
কমিশনার আরও জানান, তদন্ত করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশ গুগল, টুইটার-সহ বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে ওই টুলকিট ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদানের আবেদন করে। তাদের ইমেল আইডি, ডোমেন ইউআরএল চেয়ে পাঠানো হয়। তারপরে টুইটারকে ১১৭৮ অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার আবেদন জানায় সরকার। তারপরেই দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু এই ঘটনায় প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েছে সরকার।