দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির নেতাদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্যই দিল্লির এই হিংসা হয়েছে বলে লোকসভায় আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। সোমবার সংসদ অধিবেশনে লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা বলেন “সরকার এবং কেন্দ্রের শাসকদলের ‘গোলি মারো’র মতো উস্কানিমূলক স্লোগানই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বারবার ওই স্লোগান দেওয়ার ফলেই দিল্লিতে আজকে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।”
শুধু দিল্লি নয়। গতকাল কলকাতায় অমিত শাহের সভায় যোগ দিতে আসা বিজেপি কর্মীদের মুখেও শোনা গিয়েছে ‘গোলি মারো’ স্লোগান। যা নিয়ে আবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ গর্বের সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দেশের সম্পত্তি নষ্ট করবে তাদের গুলিই করা উচিত। একথা বলার মধ্যে কোনও অন্যায়ও খুঁজে পাননি দিলীপবাবু। এদিন লোকসভায় দাঁড়িয়ে বহরমপুরের সাংসদ বলেন, “দেশ কি এই চেয়েছিল? যে তারা সবাইকে গুলি করে দেবে? আজকে এই ধরনের স্লোগানের জন্য দিল্লির তিন-চারটি এলাকায় এমন হিংসা ঘটল। সেই স্লোগান আবার দিল্লি থেকে কলকাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটাই কি অচ্ছে দিন?”
সোমবার থেকে সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনের আগেই এদিন দেখা যায় সংসদ চত্বরে দিল্লির হিংসা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কংগ্রেস সাংসদরা। নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী ও অধীর চৌধুরী। কংগ্রেস সাংসদদের হাতে ঝোলানো ব্যানারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। দিল্লির হিংসা নিয়ে জবাব চাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও।
গত সপ্তাহে টানা তিনদিন ধরে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে তাণ্ডবলীলা চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের মধ্যেই হিংসার আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে রাজধানীরই একটি প্রান্তে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশকর্মী ও গোয়েন্দা অফিসারও। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ২০০-র বেশি মানুষ।
দিল্লির হিংসা চলার সময়েই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতানেত্রীরা। এমনকি কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী সাংবাদিক বৈঠক করার পর রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। রাস্তায় মিছিল করতে নেমেছিলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও। তবে গোটা পর্বে রাহুল গান্ধীর দেখা মেলেনি। এদিন সংসদে দেখা গেল তিনি যোগ দিয়েছেন বিক্ষোভে।