দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক অত্যাচার হয়নি ঠিকই। কিন্তু পাকিস্তানে ৬০ ঘণ্টার বন্দি জীবনে তাঁকে প্রচণ্ড মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে বলে দেশে ফিরে জানিয়েছেন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই শনিবার সন্ধ্যায় এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এনেছে।
বুধবার দুপুর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে শুরু করে উইং কম্যান্ডারের রক্তাক্ত মুখের ছবি। সেখানে দেখা যায় বেশ কয়েকজন মারধর করছেন অভিনন্দনকে। পাক রেঞ্জার্সের তরফে বলা হয় তাঁরা ছিলেন পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিক। জনরোষ থেকে বাঁচাতেই অভিনন্দনকে হেফাজতে নেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
এর পর পরই প্রকাশ্যে আসে আরও একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায় কালো কাপড়ে বাঁধা রয়েছে কম্যান্ডারের চোখ। অনুমান, পিছমোড়া করে বাঁধা রয়েছে হাতও। কিন্তু তখনও সৌজন্য দেখিয়েই ব্যবহার করেছেন অভিনন্দন। আপনি সম্বোধন করে তিনি জানতে যান পাকিস্তান সেনার হেফাজতে রয়েছেন কিনা।
তারপরেই আর এক ভিডিওতে দেখা যায় চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন অভিনন্দন। বলছেন, "পাকিস্তান সেনার ব্যবহারে আমি মুগ্ধ।" এমনকী প্রশংসা করেছেন চায়ের স্বাদেরও। অকপটে জানিয়েছেন নিজের নাম এবং সার্ভিস নম্বর। তারপরেই পাক রেঞ্জার্সের তরফে অভিনন্দনকে জিজ্ঞাসা করা হয় কী বিমান চালাচ্ছিলেন তিনি এবং কী মিশন ছিল তাঁর। জবাব উইং কম্যান্ডার সাফ জানিয়ে দেন এ প্রশ্নের জবাব তিনি দেবেন না।
এই ঘটনার পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাক সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেন শুক্রবার ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে অভিনন্দনকে। ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন কম্যান্ডার। অভিনন্দন দেশে ফেরার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও ছড়িয়ে পড়ে কম্যান্ডারের একটি ভিডিও। যেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্যবহারে অভিনন্দন সন্তুষ্টির কথা জানান। তিনি বলেন, "ভারতীয় মিডিয়া অনেকসময়েই অনেক কিছু রং চড়িয়ে বলে। কিন্তু পাক রেঞ্জার্সের ব্যবহার যথেষ্টই পেশাদারিত্বের। আমার কোনও অসুবিধা হয়নি।"
পাক রেঞ্জার্স আগেই দাবি করেছিল, জনতার রোষ থেকে বাঁচাতেই অভিনন্দনকে হেফাজতে নিয়েছিল তারা। শেষ ভিডিওতেও তেমনটাই বলতে শোনা গিয়েছে কম্যান্ডারকে। তিনি বলেন, "আমার পিছনে অনেকজন লোক ছিলেন। তাঁদের থেকে পাক সেনারাই আমায় বাঁচান। ওঁদের ক্যাম্পে এনে ফাস্ট এইড দেন। আমায় হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়।" এর পাশাপাশি অভিনন্দনকে বলতে শোনা গিয়েছে পাক রেঞ্জার্সের ব্যবহারে তিনি খুশি।
https://www.youtube.com/watch?v=Gspc8Rjn-K4
কিন্তু এই ভিডিও প্রকাশ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন উইং কম্যান্ডার। সাফ জানালেন, চরম মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তাহলে শেষ প্রকাশ পাওয়া ভিডিও-র রহস্য কী? সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, অভিনন্দন বলেছেন, ওই ভিডিওতে তাঁকে জোর করে কথা বলানো হয়েছে। এমনকী 'এডিট' করে সাজানো হয়েছে ওই ভিডিও। যেখানে তাঁকে দিয়ে পাকিস্তান সেনা সম্পর্কে ভাল ভাল কথা বলিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, টেলিভিশন-রেডিও-খবরের কাগজ সব থেকে বিচ্ছিন্ন করে অভিনন্দনকে একটি আলাদা সেলে বন্দি করে রেখেছিল পাক সেনা। এমনকী তিনি যে দেশে ফিরবেন সেটাও নাকি জানানো হয়নি তাঁকে।