দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার গ্রাসে গোটা বিশ্ব। সংক্রমণ রুখতে জারি হওয়া লকডাউনে ভারতও। কিন্তু শুধু ঘরে বন্দি থেকেই করোনাকে রোখা যাবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী দম্পতি অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এস্থার ডুফলো। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে করোনা সংক্রমণ রোখা যায় তার জন্য ন’দফা প্রেসক্রিপশন লিখে দিলেন অভিজিৎ এবং এস্থার।
তাঁরা দু'জনেই করোনা সচেতনতায় প্রচারে নামতে চান বলে জানিয়েছেন। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথাও বলেছেন অভিজিৎ। তারপর 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর একটি প্রতিবেদনে ভারতের জনবিন্যাস, আর্থসামাজিক কাঠামো, মানুষের বসবাসের এলাকার ধরন ব্যাখা করেন নোবেল জয়ী এই দুই অর্থনীতিবিদ।
ওই প্রতিবেদনে তাঁরা লিখেছেন, ভারত বিপুল জনসংখ্যার দেশ। সেখানে সংক্রমণ ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করতে পারে। এত গ্রামাঞ্চল, এত বস্তি, এত ঘিঞ্জি বসতি এলাকা রয়েছে যে, সেখানে মৃত্যুর বিস্ফোরণ ঘটতে বেশি সময় লাগবে না। একে রুখতে গেলে ব্যাপক সচেতনতা ও প্রচার ছাড়া আর বিকল্প কোনও রাস্তা নেই। লকডাউন কেন বলবৎ হয়েছে, সেকথা আরও বেশি করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ন'দফা পদক্ষেপের নিদান দিয়েছেন তাঁরা।
১. প্রত্যেকটি পরিবারকে করোনার অভিঘাত নিয়ে সচেতন করতে হবে। এই কাজ করতে হবে ধারাবাহিক ভাবে। যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন কোভিড-১৯ কতটা ভয়াবহ।
২. প্রতিটি সংক্রমণের ঘটনা সঠিক ভাবে যাতে রিপোর্ট হয় তার জন্য চাই সার্বিক উদ্যোগ। অর্থাৎ কেউ যেন রোগের কথা গোপন না করেন। এটাই সংক্রমণ রোখার চাবিকাঠি।
৩. প্রশাসনের কাছে যাতে সঠিক রিপোর্ট পৌঁছয় তার জন্য একাধিক পন্থা নিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলেছেন, অঙ্গনওয়াড়ি-আশা কর্মীদের এ ব্যাপারে যুক্ত করার কথা।
৪. গ্রামাঞ্চলে যে সব স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন বা চিকিৎসকরা কাজ করছেন, তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যাতে উপসর্গ দেখলেই তাঁরা স্থানীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে তক্ষুণি রিপোর্ট করতে পারেন।
৫. রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ করতে হবে সময়মতো। একটু দেরি হলেই যে সমূহ বিপদ তাও উল্লেখ করেছেন অভিজিৎ-এস্থার। এই কাজ করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। এও বলেছেন, সব কটি রাজ্যের মধ্যে এ ব্যাপারে যেন সমন্বয় থাকে।
৬. প্রতিটি রাজ্যে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে মোবাইল টিম গড়া দরকার। করোনা পরীক্ষার কিট রাখতে হবে তাঁদের কাছে। কারও শরীরের সন্দেহজনক উপসর্গের খোঁজ পেলেই তাঁরা যাতে সেখানে পৌঁছে যেতে পারেন।
৭. যাঁরা সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করছেন তাঁদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের যাতে কোনও অভাব না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।
৮. অর্থনৈতিক ভাবে যাতে সাধারণ মানুষ একটা নিশ্চয়তা পায় তার গ্যারান্টি সরকারকে দিতে হবে। নাহলে লকডাউনের উদ্দেশ্য বিফলে যাবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এক লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয় বলে ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন নোবেলজয়ী দম্পতি। এই আর্থিক প্যাকেজকে 'স্মল পটেটো' বলে উল্লেখ করেছেন অভিজিৎ-এস্থার।
৯. যতদিন না ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন সরকারকে এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি জারি রাখতে হবে। এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গড়ে তুলতে হবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো।