দ্য ওয়াল ব্যুরো: জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের দিকে গুলি চালানো কিশোরকে পুরস্কার দেবে বলে ঘোষণা করে দিয়েছে হিন্দু মহাসভা। কিন্তু বিজেপির দিল্লি রাজ্য সভাপতি মনোজ তিওয়ারি সংশয় প্রকাশ করলেন রামভক্ত গোপালের পরিচয় নিয়ে। তার ফেসবুক প্রোফাইল দেখে মোটামুটি গোটা দুনিয়া যখন জেনে গিয়েছে যে, সে কট্টর হিন্দুত্ববাদী তখন মনোজ তিওয়ারি শোনালেন অন্য কথা।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মনোজ বলেন, “যে ছেলেটি ওখানে গুলি চালিয়েছে হয় সে আম আদমি পার্টির সমর্থক নয় শাহিনবাগ থেকে এসেছিল।” তিনি আরও বলেন, “ওরা বেশিদিন এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারবে না। তাই পরিকল্পনা করে এসব করছে।”
ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে ওই যুবক উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। সেখান থেকেই দিল্লিতে গিয়েছিল সে। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ জামিয়া মিলিয়ার সামনে পৌঁছে যায়। হাতে বন্দুক নিয়ে হুমকি দিতে থাকে ওই পড়ুয়াদের উদ্দেশে। সাদাত আলম নামের এক পড়ুয়া তার দিকে এগিয়ে গেলে ‘ইয়ে লো আজাদি’ বলে দেশি পিস্তল থেকে আচমকা গুলি চালিয়ে দেয়।
যে ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, ওই যুবক যখন প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক হাতে আস্ফালন দেখাচ্ছে তখন কয়েক মিটার দূরে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছে দিল্লি পুলিশ। এই নিয়েও কম সমালোচনা হচ্ছে না। যদিও গতকাল বিকেলেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিবৃতি দিয়ে বলেন, “কোনও কালপ্রিটকে রেয়াত করা হবে না। আমি দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছি অপরাধীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে।”
বিরোধীদের বক্তব্য, এই সবটাই বিজেপির চাল। দিল্লির ভোটের আগে উগ্র মেরুকরণের হাওয়াকে আরও তীব্র করতেই উত্তরপ্রদেশ থেকে ভাড়া করে এই যুবককে নিয়ে আসা হয়েছিল। সব মিলিয়ে জামিয়া কাণ্ড নিয়ে শুক্রবারও তোলপাড় দিল্লির রাজনীতি।