দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখন সবে ঘণ্টা দেড়েক ভোট গণনা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট শেষ করে সবে মাত্র দু’চারটে টেবলে ইলেক্ট্রনিক্স ভোটযন্ত্র খোলা হয়েছে কি হয়নি তার মধ্যেই তরঙ্গ বয়ে যায় শাহিনবাগের সিএএ বিরোধী আন্দোলন মঞ্চে।
খবর আসে শাহিনবাগ যে কেন্দ্রে পড়ে সেই ওখলা বিধানসভায় নাকি এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু সেই এগিয়ে থাকা ঘণ্টা খানেকও থিতু হয়নি। বেলা বাড়তে দেখা যায় অন্যান্য আসনের মতো ওখলাতেও ধরাশায়ী হচ্ছে বিজেপি। বিকেল সওয়া পাঁচটা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে কে জয়ী নির্বাচন কমিশন তা ঘোষণা করেনি। তবে কমিশন জানিয়ে দিল সাড়ে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন ওই কেন্দ্রের আপ প্রার্থী আমানতউল্লা খান।
গতবারও আমানতউল্লা জিতেছিলেন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে। কিন্তু গত লোকসভা ভোটে ওখলা বিধানসভায় সামান্য ভোটে পিছিয়ে পড়ে আম আদমি পার্টি। পূর্ব দিল্লি লোকসভার মধ্যে পড়ে শাহিনবাগ। ওই কেন্দ্রের সাংসদ এখন বিজেপির ক্রিকেটার নেতা গৌতম গম্ভীর।
https://twitter.com/kartikeya_1975/status/1221792670328270848
মনে পড়ে গত কয়েক সপ্তাহে দিল্লির ভোটে বিজেপির প্রচারের কথা? গেরুয়া শিবিরের ছোট, বড়, মাঝারি—যে নেতার হাতেই মাইক উঠেছে, সবাই প্রায় নিয়ম করে বলেছেন, “গোটা দিল্লিকে শাহিনবাগ বানাবেন, নাকি পদ্ম ফুল ফুটিয়ে দেশবিরোধীদের শায়েস্তা করবেন, ঠিক করুন আপনারা।” মেরুকরণের প্রচারকে তীব্র থেকে তীব্রতর জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। গণনার শুরুতে অনেকেই ভ্রু কুঁচকে বলেছিলেন, সব জায়গায় জিতে যদি ওখলায় হেরে বসে আপ তাহলে বিজেপি বলবে ওই আন্দোলনকে মানুষ পরাস্ত করেছে। কিন্তু তার আর সুযোগ রইল না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি যে মেরুকরণ করতে গিয়েছিল তার ঠিক বিপরীতটা হয়েছে ভোটের ফলে। দেখা গেল সংখ্যালঘু ভোট এককাট্টা হয়ে পড়েছে আপের বাক্সে। অন্যদিকে হিন্দু ভোট ছড়িয়ে গিয়েছে চতুর্দিকে। ফলে হাসি ফুটল শাহিনবাগে। আন্দোলন মঞ্চে চলল উৎসব।