দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানের টিকিটের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য দুবাইয়ের এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইন্টের্যাক্টিভ ভয়েস রেসপন্স সিস্টেম-এ একটি ফোন আসে। আর এই ফোন থেকেই ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির হাতে ধরা পড়ল পাকিস্তানের বাসিন্দা দুবাই স্থিত মহম্মদ কামরান। এই কামরান পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবাকে নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ সাহায্য করত বলে এনআইএ সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, এই প্রথমবার কোনও বিমানসংস্থার অটোমেটেড ভয়েস সিস্টেমের মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার করা হলো।
দু সপ্তাহ আগে এনআইএ তিনজনের নামে চার্জশিট ফাইল করে। এই তিনজন হল কামরান, দিল্লির মহম্মদ সলমন ও রাজস্থানের মহম্মদ সেলিম। এনআইএ সূত্রে খবর, এরা ভারতে লস্করের স্লিপার সেল ফালাহ্-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনকে সক্রিয় করার কাজ করছিল। হরিয়ানা ও দিল্লিতে এই সেল তৈরির কাজ চলছিল। দুবাই থেকে কামরানের নির্দেশ ও টাকা দিয়ে কাজ করত সলমন ও সেলিম। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। দু’জন ধরা পড়লেও কামরানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এই কামরান মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড তথা লস্কর প্রধান হাফিজ মহম্মদ সঈদ ও ফালাহ্-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনের প্রধান শাহিদ মেহমুদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। কামরানকে গ্রেফতার করার পর ভয়েস স্যাম্পল মিলিয়ে দেখে তবেই নিশ্চিত হয়েছে এনআইএ।
সূত্রের খবর, কিছুদিন আগেই দুবাইয়ের এমিরেটস এয়ারলাইন্সে একটি ফোন করে কামরান। এই ফোন রেকর্ড হয়ে যায়। এর আগে কামরানের সঙ্গী গুজরাতের বাসিন্দা আরিফ গুলামবশির ধরমপুরিয়ার বাড়ি থেকে একটি সিডি উদ্ধার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। এই সিডিতে কামরান ও মেহমুদের গলা রেকর্ড করা ছিল। এছাড়াও পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিয়ো রেকর্ডিংও ইউটিয়ুব থেকে জোগার করে এনআইএ। জানা গিয়েছে, সিডি ও ইয়ুটিয়ব ভিডিয়োর গলার স্বরের সঙ্গে ওই ফোনকলের গলার স্বর মিলিয়ে দেখা হয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গলার স্বর মিলে গিয়েছে। অর্থাৎ ধৃত ব্যক্তিই কামরান, এই ব্যাপারে নিশ্চিত ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।
এনআইএ সূত্রে খবর, জমা দেওয়া চার্জশিটে বলা হয়েছে, “উদ্ধার হওয়া সিডি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ভারতে স্লিপার সেল সক্রিয় করার জন্য নিয়মিত সলমন ও সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত কামরান। দুবাই থেকে নিয়মিত দু’জনকে টাকা পাঠাত সে। হাওয়ালার মাধ্যমে কামরানের কাছ থেকে ৫৭.২২ লক্ষ টাকা পেয়েছিল সলমন। এই টাকা দিয়ে পালওয়ালের উটাওয়ার গ্রামে খুলাফা-ই-রাশিদিন নামের একটি মসজিদ তৈরি করেছিল সে। এই মসজিদে মুসলিম মেয়েদের নিকাহ হতো। মসজিদ তৈরির পরেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সলমনকে।”
এই স্লিপার সেল ফালাহ্-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল ইউনাইটেড নেশনসের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু তারপরেও লস্কর থেকে নিয়মিত টাকা পেত এই সংস্থা। এই সংস্থার সঙ্গে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, পাক সেনা এবং বেশ কিছু পাক শিল্পপতিও যুক্ত ছিল। এই টাকার মাধ্যমে লস্কর ও জামাত-উদ-দাওয়া ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাত বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-national-amit-shah-meets-upset-bjp-veterans-lk-advani-and-murli-manohar-joshi/