দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের সবথেকে বয়স্ক হিসেবে করোনাভাইরাসকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন বেঙ্গালুরুর এক বৃদ্ধা। ৯৯ বছর বয়সে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরেও সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি।
গত ১৮ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই মহিলা। ঘটনাচক্রে সেদিনই ছিল তাঁর ৯৯ তম জন্মদিন। তাঁকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুধু ওই মহিলা নন, তাঁর ৭০ বছর বয়সী ছেলে, এবং পুত্রবধূ ও নাতিকেও ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে।
মাত্র ৯ দিনেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন ওই বৃদ্ধা। তাঁর সঙ্গে তাঁর নাতিও সুস্থ হয়ে উঠেছেন। শুক্রবার তাঁদের দুজনেরই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। শনিবার নাতির হাত ধরে হাসপাতাল থেকে পায়ে হেঁটে বেরিয়ে আসেন বৃদ্ধা। তাঁকে হাসপাতালের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বৃদ্ধার ছেলে জানিয়েছেন, “আমি, আমার স্ত্রী ও ছেলে তিনজনেরই জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আমার মায়ের কোনও উপসর্গ ছিল না। তারপরেও আমরা ওনাকে টেস্ট করাই। তাতে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপরেই সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”
ওই পরিবার এখনও বুঝতে পারছেন না তাঁদের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ কী ভাবে ছড়াল। কারণ লকডাউনের মধ্যে একমাত্র বৃদ্ধার নাতি ছাড়া সবাই বাড়িতেই থাকতেন। কেবল ২৯ বছর বয়সী নাতিই জিনিসপত্র কিনতে, বাজার করতে বাড়ির বাইরে যেতেন। কিন্তু সবরকমের সতর্কতা অবলম্বন করা হত। তারপরেও আক্রান্ত হলেন তাঁরা।
প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাঁরা যান। কিন্তু সেখানে কোভিড ১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসা হয় না। ফলে বাধ্য হয়েই ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি হন তাঁরা। বৃদ্ধার ছেলে জানিয়েছেন, “আগে আমাদের ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল সম্পর্কে অন্য রকমের ধারণা ছিল। কিন্তু এখানকার পরিষেবা যথেষ্ট ভাল। যেদিন থেকে ভর্তি হয়েছি, আমাদের একটা পয়সাও খরচ করতে হয়নি। আমার মা ও ছেলে সুস্থও হয়ে উঠেছেন।”
এই প্রসঙ্গে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের নোডাল অফিসার ডক্টর অসীমা বসু জানিয়েছেন, “ট্রমা কেয়ার সেন্টারের ডাক্তার ও নার্সদের উৎসাহ ও চিকিৎসায় ওই বৃদ্ধা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি মানসিকভাবে যথেষ্ট ইতিবাচক। জীবনকে ভাল ভাবে বাঁচতে জানেন। তাই আরও দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।”