দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বাধিক ১৮,৫৫২ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন দেশবাসী। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের মাত্র ৮টি রাজ্যে এই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সিংহভাগ রয়েছে।
শনিবার বিকেলে ১৭ তম মন্ত্রীগোষ্ঠীর বৈঠকে এই পরিসংখ্যান দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন। তিনি জানান, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, তামিলনাড়ু, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ, এই ৮টি রাজ্যে দেশের মোট করোনা আক্রান্তের ৮৫.৫ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। দেশে মোট করোনায় মৃত্যুর ৮৭ শতাংশও ঘটেছে এই ৮টি রাজ্যেই।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে ১৫টি দল তৈরি করে তা বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই রাজ্যগুলির সরকারের সঙ্গে মিলে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় কাজ করছে এই বিশেষজ্ঞ দল। এই দলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এপিডেমায়োলজিস্ট ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এই মুহূর্তে আক্রান্তের সংখ্যা মহারাষ্ট্রে ১,৫২,৭৬৫, দিল্লিতে ৭৭,২৪০, তামিলনাড়ুতে ৭৪,৬২২। এই তিন রাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দেশের ৬৩.৭ শতাংশ। এছাড়া গুজরাতে ৩০,০৯৫, উত্তরপ্রদেশে ২০,৯৪৩, পশ্চিমবঙ্গে ১৬,১৯০, তেলেঙ্গানায় ১২,৩৪৯ ও অন্ধ্রপ্রদেশে ১১,৪৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও ভারতে করোনায় মৃত্যুহার খুবই কম বলে ফের একবার দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এদিন বৈঠকে তিনি বলেন, ভারতে করোনায় মৃত্যুহার এই মুহূর্তে ৩.০৮ শতাংশ। এই হার খুবই কম। কয়েক দিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল বলেছিলেন, ভারতে মৃত্যুহার ২.৮২ শতাংশ যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম। ভারতে সুস্থতার হার ৫৮ শতাংশের বেশি। এই পরিসংখ্যানও যথেষ্ট ইতিবাচক বলেই জানিয়েছেন ডক্টর হর্ষ বর্ধন।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দেশে ১০২৬টি সরকারি ল্যাব রয়েছে। এছাড়া আরও ২৮৫টি বেসরকারি ল্যাব রয়েছে। এই ল্যাবগুলিতে জোর কদমে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ লাখ ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট ৮০ লাখ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট ভারতে এই মুহূর্তে আক্রাতের হার ৪ শতাংশ।