দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ রূপ আসা এখনও বাকি রয়েছে। লকডাউনের চতুর্থ পর্যায় শেষ হওয়ার পরেই তা আসবে বলে জানালেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস ( নিমহানস )-এর নিউরোভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ও কর্নাটকের কোভিড ১৯ হেলথ টাস্ক ফোর্সের নোডাল অফিসার ভি রবি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভি রবি বলেন, “দেশ এখনও আক্রান্তের সংখ্যায় সর্বাধিক বৃদ্ধি দেখেনি। ৩১ মে লকডাউনের চতুর্থ পর্যায় শেষ হওয়ার পরেই তা দেখা যাবে। গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হবে।”
রবি আরও জানিয়েছেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশ ভারতীয় সংক্রামিত হয়ে যাবেন। তাঁদের মধ্যে অবশ্য ৯০ শতাংশ জানতেই পারবেন না তাঁরা কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। কারণ ১০ শতাংশ আক্রান্তের চিকিৎসার প্রয়োজন পড়বে। তার মধ্যে ৫ শতাংশ আক্রান্তের অক্সিজেন ও বাকি ৫ শতাংশের ভেন্টিলেশন সাপোর্টের দরকার পড়তে পারে।”
এই সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য প্রতিটি রাজ্যকে নিজেদের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছেন রবি। বিশেষ করে ভেন্টিলেশন ও অন্যান্য উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি রাখার কথা বলেছেন তিনি। এই কাজে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের সাহায্যের প্রয়োজন বলেও মত বিশেষজ্ঞের। তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় অন্তত দুটি কোভিড ১৯ হাসপাতাল তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে রাজ্যগুলিকে।
বুধবার কর্নাটক প্রথম রাজ্য হিসেবে করোনা টেস্টের জন্য ৬০টি ল্যাবরেটরির লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করেছে। এই প্রসঙ্গে রবি বলেন, “আমরা বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে একটি ল্যাবরেটরি চালু করেছি। এর সঙ্গেই আমাদের ৬০টি ল্যাব হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের ৩০টি জেলায় রয়েছে এই ৬০টি ল্যাব। এটা আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল। আমি খুব খুশি যে রাজ্য সরকার এই কাজে আমাকে সবরকম ভাবে সাহায্য করেছে। এবার ১৫ জুনের মধ্যে কর্নাটকে ৭৫টি ল্যাব চালু করার লক্ষ্য আমার। তাহলে আরও বেশি টেস্ট করা সম্ভব হবে।”
সংক্রমণ বাড়লেও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বিশেষ বাড়বে না বলেই জানিয়েছেন ভি রবি। তিনি বলেন, মৃত্যুর হার ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। গুজরাতে মৃত্যুর হার ৬ শতাংশ হতে পারে, যা দেশে সর্বাধিক হবে।
আগামী বছরের মধ্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে যাবে বলেই জানিয়েছেন রবি। তাঁর মতে সংক্রমণ বাড়লেও এই ভাইরাসের ফলে মৃত্য হার অনেক কম। তিনি বলেন, “আগামী বছর মার্চ মাস পর্যন্ত আমাদের ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করতে ভবে। সব রকমের সুরক্ষা ও সতর্কতা নিয়ে করোনার সঙ্গে বেঁচে থাকা মানুষকে শিখতে হবে। ইবোলা, মার্স বা সার্স ভাইরাসের থেকে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার অবশ্য অনেকটাই কম।”