দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক পরিবারের পাঁচজনের শরীরে মিলল নভেল করোনা ভাইরাস। কেরলের এই পরিবারের আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে একটি শিশুও। সব মিলিয়ে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৯ জন।
এক্ষেত্রেও উৎস সেই ইতালি। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে শৈলজা জানিয়েছেন, এই পরিবার সম্প্রতি ইতালি ট্যুরে গিয়েছিল। সেখান থেকেই ভাইরাস নিয়ে ফিরেছেন তাঁরা। শৈলজা আরও জানিয়েছেন, এই পরিবারের সদস্যরা ইতালি থেকে ফেরার সময়ে তিরুঅনন্তপুরম বিমানবন্দরে নামার পর 'ট্রাভেল হিস্ট্রি'র সঠিক তথ্য দেননি। ফলে স্ক্রিনিংও হয়নি। পাথানামতিট্টা জেলার এই পরিবারের করোনা আক্রান্ত পাঁচ সদস্যকেই জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গোটা দেশেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বিদ্যুৎ গতিতে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার বিকেলে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে সমস্ত রাজ্যের চিকিৎসক প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবির হয়েছে দিল্লিতে। বাংলা থেকে ওই শিবিরে যোগ দেন এসএসকেএম, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, বেলেঘাটা আইডি, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নোডাল অফিসাররা। রাজ্যে ফিরে তাঁরা আবার প্রশিক্ষণ দেবেন অন্য চিকিৎসকদের। রাজ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হবেন না। সতর্ক হোন।
করোনাভাইরাসের আক্রমণে চিনের অবস্থা ভয়াবহ। তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। চিনের বাইরেও ছড়াতে শুরু করেছে অসুখ। ইরানে মারা গেছেন দেড়শো জনেরও বেশি, ইতালিতে মৃত ১৪৩ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ৮০টি দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।
'হু' প্রকাশিত ঝুঁকির দেশগুলির তালিকায় আগেই ছিল ভারত। সে ঝুঁকির আশঙ্কা সত্যি হয়েছে ভারতে। ১৬ ইতালীয় পর্যটক আছেন এই তালিকায়। একেবারে শুরুতে কেরলেরই হানা দিয়েছিল করোনা। তার পরে তেলেঙ্গানায় ধরা পড়েন করোনাভাইরাস আক্রান্ত এক রোগী। এখন সে অসুখ এসে পৌঁছেছে দিল্লিতে। গতকাল নতুন সংযোজন হয় কাশ্মীর। এদিন ফের কেরলে থাবা বসাল মারণ ভাইরাস।