ভারতের তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে গালওয়ানের নদীতে তলিয়ে যায় ৪২ জন চিনা সেনা, দাবি অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্রের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গালওয়ানের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঠিক কতজন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল সে নিয়ে বরাবরই মুখে কুলুপ এঁটেছে বেজিং। ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ানের ১৫ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্টে কী হয়েছিল তা রহস্যই রেছে চিন। সেদিনের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়
শেষ আপডেট: 3 February 2022 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গালওয়ানের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঠিক কতজন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল সে নিয়ে বরাবরই মুখে কুলুপ এঁটেছে বেজিং। ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ানের ১৫ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্টে কী হয়েছিল তা রহস্যই রেছে চিন। সেদিনের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। চিন দাবি করেছিল তাদের তরফে মাত্র চারজনের মৃত্যু হয়। কিন্তু আসলে সংখ্যাটা য়ে এর বেশি তা জানিয়েছিল ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীও। গালওয়ান-যুদ্ধের তদন্ত চালিয়ে এতদিনে আসল পর্দা ফাঁস করল অস্ট্রেলিয়ার এক সংবাদপত্র।
অজি সংবাদপত্র ‘দ্য ক্ল্যাক্সন’ দাবি করেছে, গালওয়ান সীমান্তে সেদিন চিনের লাল ফৌজকে রুখে দিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। সীমান্তে ভারতীয় জওয়ানদের শক্তি দেখে ও তাড়া খেয়ে পড়মড়ি করে পালাতে গিয়ে গালওয়ানের খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ দেয় চিনা সেনারা। সেখানেই সলিলসমাধি হয় তাদের। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্রের দাবি, মোট ৪২ জন চিনা সেনার মৃত্যু হয় সেদিন। কিন্তু বেজিং দাবি করেছিল, তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ওয়াং ঝুরোন নামে এক জওয়ান নদীতে তলিয়ে গিয়েছিল।
১৫ জুন হট স্প্রিং লাগোয়া ১৫ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্টে চিনের বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাত হয় ভারতীয় সেনা জওয়ানদের। ভারতীয় সেনার অন্তত ২০ জন শহিদ হন ওই সংঘাতে। অস্ট্রেলিয়া সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির কর্নেল কি ফাবাও গালওয়ানের পেট্রোলিং পয়েন্টে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় দলবল নিয়ে ঢুকে পড়ে। তার সঙ্গে ছিল ১৫০ জন লাল সেনার ফৌজ। খবর পেয়ে সেই এলাকায় ভারতীয় বাহিনী পৌঁছলে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রতিবেদনে দাবি, আলোচনার বদলে চিনা সেনারা ভারতীয় জওয়ানদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। পাথর ছুড়তে থাকে। স্টিলের পাইপ, লাঠি দিয়ে ভারতীয় জওয়ানদের আঘাত করে। এর পাল্টা জবাব দেয় ভারতের বাহিনীও। রাতভর দু'পক্ষের সংঘর্ষ চলে। ভারতীয় জওয়ানদের শক্তির কাছে পরাস্ত হয়ে পিছু হটতে থাকে চিনা সেনারা।

গালওয়ানের পাহাড়ি এলাকায় রাতের অন্ধকারে সংঘর্ষ চরম রূপ নেয়। কয়েকজন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়, চিনেরও কয়েকজন সেনা নিহত হয়। সঙ্গীদের মৃত্যু দেখে পালাতে শুরু করে লাল ফৌজ। তিব্বতের মূল অংশে ঢোকার আগে গালওয়ান নদী পার হতে হয়। এই পাহাড়ি নদী খুবই খরস্রোতা। অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিক লিখেছেন, প্রাণ বাঁচাতে কোনওরকম সুরক্ষা ছাড়াই নদীতে ঝাঁপ দিতে থাকে চিনের সেনারা। তলিয়ে যায় বহু।
গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষই শুধু নয়, গত মে থেকে জুন মাসের মধ্যে একাধিকবার চিনের বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছে ভারতীয় সেনা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর টহলদারির সময় লাদাখে আকছার চিনা সেনা নিয়্ন্ত্রণ রেখা টপকে ভারতের দিকে চলে আসে। তা সিকিম সেক্টরেও মাঝে মধ্যে হয়। কিন্তু প্রতিবারই দেখা যায়, দুই পক্ষের মিলিটারি কমান্ডার স্তরে বৈঠকের পর বিরোধ মীমাংসা স্থানীয় ভাবেই হয়ে যায়। তাতে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু মে মাসের গোড়া থেকে শুধু সীমান্ত উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না চিনের ফৌজ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে আসার চেষ্টাও করছে। ভারতীয় বাহিনী জানিয়েছিল, গত কয়েকমাসে আরও কয়েকবার চিনের বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে ভারতীয় জওয়ানদের। শত্রুপক্ষের মোকাবিলা করতে ১৭-২০ ঘণ্টা লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও আছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর। ফের চিন অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালালে এভাবেই রুখে দেওয়া হবে তাদের।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'